এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে উত্তেজনা ডেনমার্কের পাশে ইউরোপীয় শক্তি

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে উত্তেজনা ডেনমার্কের পাশে ইউরোপীয় শক্তি

গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদার করতে ফ্রান্স ও জার্মানি সহ বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশের সেনারা সুমেরু অঞ্চলের এই দ্বীপে পৌঁছাতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ইউরোপীয় মিত্রদের মৌলিক মতবিরোধ দেখা দেওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ফ্রান্স ইতিমধ্যে ১৫ জন এবং জার্মানি ১৩ জন সেনা পাঠিয়েছে। এছাড়া নরওয়ে ও সুইডেনও এই মিশনে অংশ নিচ্ছে। মূলত ভূখণ্ডগত স্বীকৃতি ও প্রতীকীভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা উত্তোলনের লক্ষ্য নিয়ে এই বিশেষ মহড়া শুরু হয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ নিশ্চিত করেছেন যে তাদের মাউন্টেন ইনফ্যান্ট্রি ইউনিটের সদস্যরা ইতিমধ্যে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ অবস্থান করছেন। ফ্রান্সের মতে এই দুই দিনের মিশনের উদ্দেশ্য হলো এটি প্রমাণ করা যে প্রয়োজনে ইউরোপীয় সেনারা দ্রুত মোতায়েন হতে সক্ষম। এদিকে ডেনমার্কও গ্রিনল্যান্ডে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের খনিজ সমৃদ্ধ এই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি দখল করার ইচ্ছার বিপরীতে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে ডেনমার্ক ও তার মিত্ররা।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাথে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠক শেষে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লারস লোকে রাসমুসেন হতাশা প্রকাশ করে জানান যে আমেরিকার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা পোষণ করছেন। অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎজফেল্ড যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতার কথা বললেও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা আমেরিকার মালিকানাধীন হতে চান না।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট অবশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন যে ইউরোপীয় দেশগুলোর এই সেনা মোতায়েন ট্রাম্পের পরিকল্পনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। ট্রাম্পের দাবি যদি যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে না যায় তবে রাশিয়া ও চীন সেখানে ঢুকে পড়বে এবং ডেনমার্কের তা ঠেকানোর ক্ষমতা নেই। নুক থেকে আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে ডেনমার্ক মূলত ট্রাম্পকে বোঝাতে চাইছে যে তারা সুমেরু অঞ্চলের নিরাপত্তায় সক্ষম। একইসাথে ন্যাটো মিত্রদের উপস্থিতি আমেরিকার জন্য সম্ভাব্য কোনো আক্রমণকে আরও জটিল করে তুলবে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর এই তৎপরতাকে কঠোর সমালোচনা করেছে রাশিয়া। মস্কোর মতে পশ্চিমারা কাল্পনিক শত্রুর ভয় দেখিয়ে সুমেরু অঞ্চলে সামরিকীকরণ করছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন রাশিয়া ও চীনের কর্মকাণ্ডকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে এই উত্তেজনা বাড়ানো হচ্ছে। রাশিয়া চায় সুমেরু অঞ্চল শান্তি ও সহযোগিতার জায়গা হিসেবে থাকুক।

এদিকে গ্রিনল্যান্ডের ইনুইট সম্প্রদায়ের আদিবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা আমেরিকা খনিজ সম্পদের লোভে তাদের হাজার বছরের জীবনযাত্রা ও ঐতিহ্য ধ্বংস করে দেবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে তারা সম্পদ নিয়ে ভাবছেন না বরং তারা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষা নিয়ে শঙ্কিত। আমেরিকার এই দখলদারিত্বের ইচ্ছা সুমেরু অঞ্চলের আদিবাসীদের অস্তিত্বের সংকটে ফেলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।