এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব দিলেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী

গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব দিলেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী

ভেনেজুয়েলার ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা পুনব্যক্ত করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। রোববার এক বিবৃতিতে তিনি ট্রাম্পকে এ ধরনের হুমকি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড দখল বা সংযুক্তির আলোচনা সম্পূর্ণ অর্থহীন। ডেনিশ রাজ্যের কোনো অংশ দখল করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

সম্প্রতি দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত জরুরি। গত শনিবার ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনার পর ডেনমার্কের আশঙ্কা বাড়ছে যে গ্রিনল্যান্ড নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র একই পথ অবলম্বন করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ঐতিহাসিক মিত্র দেশের ওপর এমন হুমকি বন্ধ করতে হবে।

গ্রিনল্যান্ড একটি স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চল এবং ন্যাটোর সদস্য। কৌশলগত কারণে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝে এর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের জন্য। এছাড়া অঞ্চলটির বিশাল খনিজ সম্পদও ওয়াশিংটনের মূল আকর্ষণের কারণ, যার মাধ্যমে তারা চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়। গত মাসেই ট্রাম্প প্রশাসন লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে এই দ্বীপের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, যিনি প্রকাশ্যে এই অঞ্চলটি দখলের সমর্থন করেন।

এদিকে ট্রাম্পের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন পতাকার রঙে রাঙানো একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে শীঘ্রই শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এই ঘটনাকে চূড়ান্ত অসম্মানজনক বলে অভিহিত করেছেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন। তিনি বলেন, দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, কোনো প্রতীকী অঙ্গভঙ্গির ওপর নয়। তবে তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রির কোনো সুযোগ নেই এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত জেসপার মোয়েলার সোরেনসেন এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের দাবি জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে মনে করিয়ে দেন যে ডেনমার্ক আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রচেষ্টা জোরদার করেছে এবং তারা বন্ধুপ্রতীম মিত্র হিসেবেই কাজ করতে চায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি দীর্ঘদিনের মিত্র দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে।