এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবার ২০২৫, ০৩:১৮ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

গাজা যুদ্ধবিরতির পর নতুন সংকটে নেতানিয়াহু

গাজা যুদ্ধবিরতির পর নতুন সংকটে নেতানিয়াহু

গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরাইলি হামলায় হাজারো প্রাণহানি ও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের পর অবশেষে কার্যকর হয়েছে যুদ্ধবিরতি। কিন্তু ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য এটি এক নতুন রাজনৈতিক ঝড়ের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

অনেক সমালোচক বলছেন, নিজের রাজনৈতিক সংকট আড়াল করতেই গাজা যুদ্ধকে ব্যবহার করেছেন নেতানিয়াহু। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার সামনে পুরনো চ্যালেঞ্জগুলো আবারও মুখ তুলে দাঁড়াচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা

বিশ্বমঞ্চে ইসরাইল বর্তমানে এক ধরনের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে পড়েছে। গাজায় হাজারো ফিলিস্তিনির মৃত্যু ও মানবিক বিপর্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা অব্যাহত থাকলে ইসরাইলের ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর বাড়াবে আন্তর্জাতিক চাপ।

ডানপন্থী জোটে অস্থিরতা

নেতানিয়াহু তার সরকার টিকিয়ে রাখতে কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর ওপর নির্ভর করছেন। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির তার সরকার টিকিয়ে রেখেছেন। যুদ্ধবিরতির পর তারা জোট ছাড়ার হুমকি দিলেও এখনো সরকারে রয়েছেন।

 তাদের সমর্থন ধরে রাখতে নেতানিয়াহু কঠোর ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে তিনি জোট ঐক্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।

আন্তর্জাতিক আদালতের মামলা

২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াভ গালান্তের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

 একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ বিবেচনা করছে। দোষী সাব্যস্ত হলে নেতানিয়াহুর জন্য শাস্তি হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও ট্রাম্পের দূরত্ব

ইসরাইলের সবচেয়ে বড় সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রও এখন নেতানিয়াহুর প্রতি সতর্ক অবস্থানে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্কও ক্রমশ ঠান্ডা হয়ে গেছে। কাতারে হামাস মধ্যস্থতাকারীদের ওপর ইসরাইলি হামলার পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা নিয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “ইসরাইলকে গাজায় আর সেনা পাঠাতে দেওয়া হবে না।”

৭ অক্টোবর হামলার ব্যর্থতার তদন্ত

হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ইসরাইলি সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতা নিয়ে তদন্ত চলছে। সেনা ও গোয়েন্দা প্রধানরা পদত্যাগ করলেও, নেতানিয়াহু নিজের সরকারের ভূমিকা নিয়ে তদন্তে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে ইসরাইলের হাইকোর্ট রায় দিয়েছে—এখন আর তদন্ত স্থগিত রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

দুর্নীতি মামলার ঝুঁকি

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের তিনটি মামলা চলমান। যুদ্ধকালেও এসব মামলা থেমে নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

সম্প্রতি ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইসরাইলি প্রেসিডেন্টকে নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার আহ্বান জানিয়ে তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও জটিল করে তুলেছেন।

সব মিলিয়ে, গাজা যুদ্ধবিরতি নেতানিয়াহুর জন্য সাময়িক স্বস্তি আনলেও, সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও আইনি লড়াই।