জাতিসংঘ — গাজা সংকট সমাধানে নিজেদের পরিকল্পনার পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্মতি আদায়ে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে চাপ বাড়িয়েছে। একই সময়ে রাশিয়া একটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাব উত্থাপন করেছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে গড়ে তোলার কথা থাকা অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের উল্লেখ বাদ দেওয়া হয়েছে এবং পরিবর্তে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের সম্ভাব্য পথনির্দেশনা দিতে জাতিসংঘকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসরায়েল–হামাস যুদ্ধের দুই বছরের বেশি সময় পর অর্জিত নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখা যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, জর্ডান ও তুরস্ক একটি যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে দ্রুত মার্কিন প্রস্তাব গৃহীত করার আহ্বান জানিয়েছে। এই দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদে আছে কেবল পাকিস্তান।
সপ্তাহজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে কয়েকটি আপত্তি ওঠে। এক কূটনীতিক জানান, আলোচনা শেষে ‘ফিলিস্তিনি আত্মনিয়ন্ত্রণ’ বিষয়ে আরও নির্দিষ্ট ভাষা যোগ করে প্রস্তাবটি সংশোধন করা হয়েছে।
পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে মার্কিন প্রস্তাবটি আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ভোটে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। কূটনীতিকের মতে, প্রস্তাবের পক্ষে ন্যূনতম নয়টি ভোট পাওয়া যেতে পারে এবং রাশিয়া ও চীন সম্ভবত ভেটো না দিয়ে বিরত থাকতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি সেই প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেবে।
মার্কিন খসড়া প্রস্তাবে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনাকে সমর্থন জানানো হয়েছে। এতে একটি বোর্ড অব পিস নামের অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা আছে, যার নেতৃত্বে থাকবেন ট্রাম্প। পাশাপাশি গাজায় সীমান্ত তদারকি, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও নিরস্ত্রীকরণের মতো বিস্তৃত ক্ষমতাসম্পন্ন একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদনও রয়েছে।
আরব ও অন্যান্য যেসব দেশ এ বাহিনীতে অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে, তারা বলে এসেছে—এ ধরনের স্পষ্ট ও শক্তিশালী ম্যান্ডেট না থাকলে তারা সেনা পাঠাবে না।
কিছু নিরাপত্তা পরিষদ সদস্যের আপত্তির মুখে—যেখানে ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রশ্নটি স্পষ্ট ছিল না—মার্কিন খসড়ায় পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন ভাষায় যুক্ত করা হয়েছে যে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কার এবং গাজা পুনর্গঠনে অগ্রগতি অর্জনের পর ফিলিস্তিনের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য পথ উন্মুক্ত হতে পারে।
রাশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী খসড়া—যা শুক্রবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস পেয়েছে—ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে আরও জোরালো ভাষা ব্যবহার করেছে এবং বলেছে, পশ্চিম তীর ও গাজা একীভূত হয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে রাষ্ট্র হিসেবে গঠিত হওয়া উচিত।
রাশিয়া জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা পরিষদকে তার ‘ন্যায্য ভূমিকা’ ও ‘প্রয়োজনীয় উপায়’ দেওয়ার লক্ষ্যেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের মতে, পরিষদের সিদ্ধান্তগুলো দুই-রাষ্ট্র সমাধানের মূলনীতিকে পুনর্ব্যক্ত করা উচিত।
রাশিয়ার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের খসড়ায় এই নীতিগুলো অনুপস্থিত থাকায় তারা নিজস্ব প্রস্তাব বিতরণ করেছে, যাতে মার্কিন ধারণাকে পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তারা আরও বলেছে, তাদের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় অর্জিত যুদ্ধবিরতি, জিম্মি বিনিময় এবং মানবিক সাহায্য পুনরায় চালুর প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেয়।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন সতর্ক করে বলেছে, বিভাজন তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টা গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘গুরুতর ও অনিবার্য পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে। তারা পরিষদকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মার্কিন প্রস্তাব পাস করার আহ্বান জানায়।