গাজা সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনার খসড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদন পেয়েছে। পরিকল্পনাটির মূল অংশ হলো গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠন, যা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবকাঠামো অপসারণ—সবই তদারক করবে।
মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, পরিষদের ১৩ সদস্য পক্ষে ভোট দিলেও রাশিয়া ও চীন ভোটদানে বিরত থাকে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও সোমালিয়া প্রস্তাবের অন্যতম সমর্থক।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, প্রস্তাবিত আইএসএফ বাহিনীর দায়িত্ব হবে সংঘাতপ্রবণ এলাকা সুরক্ষিত রাখা, গাজাকে সামরিকীকরণমুক্ত করা, সন্ত্রাসী স্থাপনা ধ্বংস করা, অস্ত্র অপসারণ করা এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তবে পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করেছে গাজার শাসকদল হামাস। তাদের দাবি, গাজায় আন্তর্জাতিক অভিভাবকত্ব চাপিয়ে দেওয়ার মতো এই উদ্যোগ ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকারকে উপেক্ষা করে। বিবৃতিতে হামাস জানায়, আন্তর্জাতিক বাহিনীকে প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার ক্ষমতা দেওয়া হলে সেই বাহিনীর নিরপেক্ষতা নষ্ট হবে।
খসড়া অনুযায়ী, আইএসএফ হামাসসহ অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করার দায়িত্বে থাকবে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তার রুটগুলো নিরাপদ রাখা, নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েল–মিসরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।
ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়ায় হামাসকে অস্ত্র জমা দিতে হবে এবং গাজায় নতুন করে প্রশিক্ষিত একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, একাধিক দেশ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাহিনীতে সদস্য পাঠাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তবে দেশগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: বিবিসি