এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবার ২০২৫, ০৫:৫৮ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

গাজায় গণহত্যা থামাতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি ইহুদি বিশিষ্টদের

গাজায় গণহত্যা থামাতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি ইহুদি বিশিষ্টদের

ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে জাতিসংঘ ও বিশ্বনেতাদের কাছে ইসরায়েলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী ইহুদি ব্যক্তিরা।

গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের নৃশংসতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রাক্তন ইসরায়েলি কর্মকর্তা, অস্কারজয়ী শিল্পী, লেখক ও বুদ্ধিজীবীসহ ৪৫০ জনেরও বেশি ইহুদি একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈঠকের সময় প্রকাশিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, “সকল মানবজীবনের সুরক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত বহু আইন ও সনদ হলোকস্টের প্রতিক্রিয়ায় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েল এই সুরক্ষাগুলো বারবার লঙ্ঘন করছে।”

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ইসরায়েলি পার্লামেন্টের সাবেক স্পিকার আভ্রাহাম বার্গ, প্রাক্তন শান্তি আলোচক ড্যানিয়েল লেভি, ব্রিটিশ লেখক মাইকেল রোজেন, কানাডিয়ান লেখক নাওমি ক্লেইন, অস্কারজয়ী নির্মাতা জোনাথন গ্লেজার, মার্কিন অভিনেতা ওয়ালেস শন, এমি বিজয়ী ইলানা গ্লেজার, পুলিৎজারজয়ী সাংবাদিক বেঞ্জামিন মোজারসহ আরও অনেকে।

তারা বিশ্বনেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় কার্যকর করা, অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ করা, নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে।

চিঠিতে লেখা হয়েছে, “অপূরণীয় দুঃখে আমরা মাথা নত করছি, কারণ প্রমাণ জমা হচ্ছে যে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড গণহত্যার আইনি সংজ্ঞা পূরণ করেছে।”

ওয়াশিংটন পোস্টের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ মার্কিন ইহুদি মনে করেন ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধাপরাধ করেছে এবং ৩৯ শতাংশ বলেন, এটি গণহত্যা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

দুই মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন ও জেফ মার্কলে তাদের প্রতিবেদনে বলেছেন, ইসরায়েল গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে নির্মূলের একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও পরোক্ষভাবে জড়িত।

তারা বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস, খাদ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার এবং মানবিক সহায়তায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির বারবার লঙ্ঘনে গাজায় সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ দিনে ইসরায়েল ৮০ বার যুদ্ধবিরতি ভেঙে ৮০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, এ বছর পশ্চিম তীরে ৩,২০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন এবং মাত্র এক সপ্তাহে বসতি স্থাপনকারীদের ৭১টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

চিঠিতে শেষবারের মতো বলা হয়েছে, “ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আমাদের সংহতি ইহুদি ধর্মের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা নয়, বরং তারই পরিপূর্ণতা। এই দখলদারিত্ব ও বর্ণবাদের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আমরা বিশ্রাম নেব না।”

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান