ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে নজিরবিহীন আক্রমণ শুরু করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শনিবার থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনার পর ইরান তার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক’ প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানের হামলা: মার্কিন ঘাঁটি ও তেল আবিব লক্ষ্যবস্তু
আইআরজিসি-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা প্রতিশোধ নিতে ছয় দফায় হামলা শুরু করেছে। ইরানের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৭টি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আক্রমণ চালানো হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবের তেল নব বিমান ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ঘাঁটিতে হামলার তথ্য স্বীকার করেছে, কিন্তু পেন্টাগন দাবি করেছে যে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে, ইরানের দাবি অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতি কতটা ব্যাপক, তা এখনো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ট্রাম্পের কঠোর হুশিয়ারি: ‘অভূতপূর্ব শক্তিতে আঘাতের হুমকি’
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন:
“ইরান মাত্রই জানিয়েছে যে তারা আজ প্রচণ্ড আঘাত হানবে, যা তারা আগে কখনো করেনি। তাদের সেটা না করাই ভালো। তারপরেও তারা যদি সেটা করে, তাহলে আমরা তাদের এমন এক শক্তি দিয়ে আঘাত করবো যা আগে কখনো দেখা যায়নি!”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বার্তাটি ইরানের প্রতি সরাসরি হুমকি, যা ইঙ্গিত দেয় যে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত এখন এক নতুন এবং ভয়াবহ মোড় নিতে যাচ্ছে।
ছায়াযুদ্ধ থেকে সরাসরি মহাযুদ্ধের পথে মধ্যপ্রাচ্য
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের কৌশলগত অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, আইআরজিসি এখন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করছে, যা গত কয়েক দশকের স্নায়ুযুদ্ধকে সরাসরি সামরিক সংঘাতের রূপ দিয়েছে।
১. সাইবার ও প্রথাগত যুদ্ধ: ইরানের লক্ষ্য কেবল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নয়, বরং মার্কিন ঘাঁটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া।
২. ভূ-রাজনৈতিক সংকট: সৌদি আরব এবং বাহরাইনের মতো দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি থাকায় এই সংঘাত আরব উপদ্বীপের দেশগুলোকে সরাসরি জড়িয়ে ফেলছে।
৩. তেলের বাজার: হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
ইরানি বাহিনীর এই ধ্বংসাত্মক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত হাজার হাজার মার্কিন সেনা এবং সাধারণ নাগরিকের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে আশঙ্কা করা হচ্ছে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং আঞ্চলিক মহাযুদ্ধে রূপ নিতে পারে।