এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বার ২০২৫, ০২:২৮ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

কোপার অনুমোদন: সাশ্রয়ী আবাসন রক্ষায় নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের বড় পদক্ষেপ

কোপার অনুমোদন: সাশ্রয়ী আবাসন রক্ষায় নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের বড় পদক্ষেপ

দীর্ঘ পাঁচ বছরের বিতর্ক ও একাধিকবার সংশোধনের পর অবশেষে নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে পাস হলো ‘কমিউনিটি অপরচুনিটি টু পারচেজ অ্যাক্ট’ বা কোপা (COPA)। বৃহস্পতিবার বছরের শেষ অধিবেশনে এই যুগান্তকারী বিলটি অনুমোদিত হয়। এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো শহরের জরাজীর্ণ এবং সাশ্রয়ী ভাড়ার ভবনগুলো যাতে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের হাতে চলে না যায়, তা নিশ্চিত করা। নতুন এই নিয়মে কোনো নির্দিষ্ট আবাসিক ভবন বিক্রির ক্ষেত্রে অলাভজনক সংস্থাগুলো সাধারণ বাজারের আগে দরদাম করার বিশেষ সুযোগ পাবে।

বিলটির প্রধান উদ্যোক্তা কাউন্সিল মেম্বার স্যান্ডি নার্স জানান, মূলত সাশ্রয়ী আবাসন টিকিয়ে রাখতেই এই উদ্যোগ। অনেক সময় দেখা যায়, পুরনো ও জরাজীর্ণ ভবনগুলো বড় বিনিয়োগকারীরা কিনে নিয়ে ভাড়া বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়ে। কোপার মাধ্যমে মিশন-ভিত্তিক সংস্থা বা কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্টগুলো এই ভবনগুলো কিনে সংস্কার করতে পারবে এবং ভাড়ার হার সাধারণের নাগালের মধ্যে রাখতে সক্ষম হবে।

তবে এই আইনটি নিয়ে শুরু থেকেই গৃহমালিক এবং রিয়েল এস্টেট গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র আপত্তি ছিল। তাদের মতে, এটি ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে সরকারি হস্তক্ষেপের নামান্তর। বিলটি পাসের আগে সিটি হলের সামনে ডিজিটাল বিলবোর্ড বসিয়ে প্রতিবাদ জানায় বিরোধীরা। স্মল প্রপার্টি ওনার্স অফ নিউ ইয়র্কের (স্পনি) পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই আইনের কারণে ছোট বাড়িওয়ালারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একটি বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে অলাভজনক সংস্থাকে বাড়তি সময় দেওয়ার ফলে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য কমে যেতে পারে এবং মালিকরা আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

সমালোচনার মুখে মূল বিলে বেশ কিছু পরিবর্তন এনে সংশোধিত সংস্করণটি পাস করা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, চারটির কম অ্যাপার্টমেন্ট আছে এমন ছোট ভবন এবং মালিক নিজে থাকেন এমন পাঁচ ইউনিটের কম ভবন এই আইনের আওতায় পড়বে না। প্রথম এক বছর শুধুমাত্র সেইসব ভবন এই তালিকায় থাকবে যেগুলোর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় এবং সিটি এজেন্সির বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে। দ্বিতীয় বছর থেকে এই সুযোগ আরও কিছুটা বাড়ানো হবে।

বিক্রির প্রক্রিয়াটি হবে নির্দিষ্ট নিয়মে। যদি কোনো মালিক এই ধরনের ভবন বিক্রি করতে চান, তবে তাকে প্রথমে সিটি এবং তালিকাভুক্ত অলাভজনক সংস্থাগুলোকে জানাতে হবে। এসব সংস্থার আগ্রহ প্রকাশের জন্য ২৫ দিন এবং চূড়ান্ত প্রস্তাব দেওয়ার জন্য ৮০ দিন সময় থাকবে। যদি মালিক তাদের প্রস্তাবে রাজি না হন, তবেই তিনি ভবনটি সাধারণ বাজারে তুলতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রেও যদি কোনো সাধারণ ক্রেতা দাম হাঁকেন, তবে প্রথম প্রস্তাবকারী অলাভজনক সংস্থাটি সেই একই দামে ভবনটি কেনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার বা রাইট অফ ফার্স্ট রিফিউজাল পাবে।

বিলটির সমর্থকদের মতে, এটি নেবারহুড পিলার্সের মতো বিদ্যমান সরকারি কর্মসূচির সাথে মিলে কাজ করবে, যা অলাভজনক সংস্থাগুলোকে কম সুদে ঋণ ও কর ছাড়ের সুবিধা দেয়। অন্যদিকে, সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, অলাভজনক সংস্থাগুলোর কাছে এই বিশাল পরিমাণ ভবন কেনা ও সংস্কার করার মতো পর্যাপ্ত তহবিল আছে কি না। সব বিতর্ক কাটিয়ে স্যান্ডি নার্স আশাবাদী যে, এই আইনের মাধ্যমে শহরের আবাসন সংকট মোকাবিলায় এবং সাধারণ মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার পাওয়া গেল।