আল্লাহর কিতাব মানুষের কাছে এসেছে মানবজীবনকে তাওহিদের ওপর দাঁড় করাতে, চেতনাকে পরিশুদ্ধ করতে, সমাজকে ইনসাফের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে এবং রাষ্ট্রকে আল্লাহর নির্দেশের অধীন আনতে। এই কিতাবকে আল্লাহ নিজেই বলেছেন “هُدًى لِّلنَّاسِ” — সমগ্র মানবতার হিদায়াত; আবার বলেছেন “تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ” মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য যা প্রয়োজন তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা। সুতরাং এর মূল অবস্থান ইবাদত, শিক্ষা, দাওয়াত, তাযকিয়া ও হুকুম। বিনোদন বা বাণিজ্য নয়। এখান থেকেই সমস্যা শুরু হয়। যখন আল্লাহর কিতাবকে তার স্বরূপ থেকে সরিয়ে এনে এমন জায়গায় বসানো হয়, যেখানে এর পবিত্রতা ক্ষুণ্ন হয়, সেখানে কুরআনের প্রথম আপত্তিই দাঁড়ায়। “وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا” (আমার আয়াতসমূহকে তুচ্ছ মূল্যে বিকিয়ে দিও না)।
এই নিষেধাজ্ঞা কেবল কারও ব্যক্তিগত ব্যবসা বন্ধ করার অনুরোধ নয়, এটা কুরআনের মর্যাদা রক্ষার ব্যাপারে এক খোদায়ি ঘোষণা। কুরআন চাইছে যারা কিতাব বহন করবে, যারা কিতাব পড়বে, যারা কিতাব শোনাবে, যারা কিতাব শেখাবে, যারা কিতাবের নামে জনগণের সামনে যাবে, তারা সবাই যেন এই কিতাবের সঙ্গে তাদের নিজ জীবনের সম্পর্ক অটুট রাখে এবং এটাকে দুনিয়ার পণ্য না বানায়। তাই কুরআন একদল জ্ঞানধারী লোকের সমালোচনা করেছে যারা কিতাবের অংশ লুকিয়ে রাখত, অংশ বিকিয়ে দিত এবং বিনিময়ে দুনিয়ার সামান্য লাভ নিত “فَوَيْلٌ لَّهُم مِّمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَّهُم مِّمَّا يَكْسِبُونَ” (বাকারা ৭৯)। এই আয়াতের অন্তর্নিহিত শিক্ষা স্পষ্ট। কিতাবকে হাতিয়ার বানিয়ে যে আয় উপার্জিত হয় অথচ সেটার সঙ্গে কিতাবের আসল লক্ষ্য হিদায়াত ও সংস্কার সংযুক্ত নয়, তা আল্লাহর কাছে ঘৃণিত।
আজকে কুরআনকে কেন্দ্র করে যে “কিরাআত-ইভেন্ট” বা “প্রতিযোগিতা-বাণিজ্য” কিছু কিছু স্থানে দেখা যাচ্ছে, তার সংকটও এইখানে। কুরআনের সঙ্গে বাস্তব আনুগত্য নেই, কুরআনের সামাজিক বিধান কার্যকর করার চিন্তা নেই, কুরআনের অর্থনীতি চালু করার উদ্যোগ নেই, গরিব ও অসচ্ছল কুরআনশিক্ষার্থীদের দায় কাঁধে নেওয়ার ঈমানি অনুভব নেই। কিন্তু কুরআনের সুরেলা অংশ, অলংকার, লালিত্য, কণ্ঠ সৌন্দর্য ও আবেগ উৎপাদক দিকটুকু বাজারে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা আছে। এটি কুরআনের দৃষ্টিতে দ্বৈত আচরণ। কারণ কুরআন নিজেই বলছে, এই কিতাব নাযিল করা হয়েছে “لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ” এর আয়াতগুলো নিয়ে মানুষ চিন্তা করবে, বোঝার চেষ্টা করবে, জীবন সংশোধন করবে (সাদ ২৯)। আবার বলছে, “إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ” এই কুরআন তো সবচেয়ে সোজা, সবচেয়ে উত্তম জীবনব্যবস্থার দিকে ডেকে নিয়ে যায় (ইসরা ৯)। যেখানে উদ্দেশ্যই ছিল মানুষের জীবন বদলানো, সেখানে উদ্দেশ্যকে সরিয়ে রেখে কেবল শব্দের মধু বিক্রি করা কিতাবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের নামে যে উপস্থাপনাটি হয় তার ভেতরে আরেকটি নৈতিক অসাম্য তৈরি হয়। লক্ষ লক্ষ ডলার বা বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ হয় “কুরআনকে উৎসাহিত করা হবে”, “তরুণরা কিরাআত শিখবে”, “পুরস্কার পেলে আগ্রহ বাড়বে” এই আকর্ষণীয় স্লোগান দিয়ে। বাস্তবে দেখা যায়, এই স্লোগান দিয়ে সংগৃহিত অঙ্কের খুবই সামান্য অংশ কয়েকজন ছাত্রের হাতে ‘পুরস্কার’ হয়ে যায়। আর বড় অংশটা চলে যায় আয়োজন, হল, মিডিয়া, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও উদ্যোক্তার লাভের খাতে। অথচ একই টাকা সরাসরি মাদরাসা, হিফজখানা, কওমি বা আলিয়া প্রতিষ্ঠান, মসজিদ মাকতবের পেছনে গেলে অসংখ্য দরিদ্র শিক্ষার্থীর মাসোহারা মওকুফ করা যেত, হাফেজদের থাকার-খাওয়ার ব্যবস্থা হতো, ক্বিরাআত শিক্ষক ও উস্তাদদের সম্মানজনক বেতন নির্ধারণ করা যেত, নতুন শাখা খোলা যেত। কুরআন যেহেতু অর্থের বণ্টননীতিতেও ইনসাফ চায় “كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنكُمْ” (হাশর ৭) যেন সম্পদ কেবলই ধনীদের মধ্যে ঘুরে না বেড়ায়, সেহেতু কুরআনের নামে অর্থ তুলে সেই অর্থকেই সংকীর্ণ বৃত্তের মধ্যে আটকে ফেলা কুরআনেরই অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে চলে যায়।
আরও বড় যে অসঙ্গতিটা ঘটে তা হলো প্রতিনিধিত্বের। কুরআন শিক্ষা, কিরাআত, তাজবীদ, হিফজ এসবের প্রাকৃতিক ও শরঈ ঠিকানা হলো মসজিদ, মাদরাসা, ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তাদের সংশ্লিষ্ট আলেম, ক্বারি ও উস্তাদবৃন্দ। কুরআন বলেছে: “فَلَوْلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَائِفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ” (তওবা ১২২) একদল মানুষকে সবসময় বের হয়ে আসতে হবে দীন বুঝার জন্য এবং তারা জনগণকে সতর্ক করবে। অর্থাৎ দীন ও কুরআনের বিশেষজ্ঞ তৈরি হবে বিশেষ প্রতিষ্ঠানেই, অন্য পেশার বিচ্ছিন্ন ও অপ্রস্তুত লোকজনের হাতে এই দায়িত্ব অর্পণ করা হবে না। কিন্তু যখন কুরআনের সৌন্দর্যকে বাজারজাত করার কাজটি সেইসব লোক নেয় যারা কুরআন শোনার সৌজন্যও রাখে না, অনেক সময় সঠিক তিলাওয়াতও পারে না। তখন আসলে তারা আল্লাহর কিতাবকে আড়াল করে নিজেদের অনুষ্ঠানকে সামনে নিয়ে আসে। এই অবস্থাকে কুরআন অন্য জায়গায় খুব স্পষ্ট ভাষায় সমালোচনা করেছে: “يُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا” ওরা দুনিয়ার অস্থায়ী লাভটাই চায় (নিসা ৯৪)।
আবার এটাও সত্য যে, শরিয়ত মাদরাসার শিক্ষক, ক্বারি, হাফেজ, মুআল্লিমদের হালাল ও প্রয়োজনীয় পারিশ্রমিকের অনুমতি দিয়েছে। এটা ফুকাহাদের আলোচিত বিষয়। কিন্তু সেটার উদ্দেশ্য ছিল কুরআন শিক্ষার ধারা টিকিয়ে রাখা, শিক্ষকের সম্মান রক্ষা করা এবং শিক্ষার্থীকে সত্যিকার অর্থে তার কিতাবের সঙ্গে যুক্ত করা। এটা কখনই ছিল না যে, কুরআনের নাম নিয়ে বড়সড় ‘শো’ হবে, তিনজন আলেমকে সামনের সারিতে বসিয়ে তাদের নাম বিক্রি করে কোটি টাকার ফান্ড তোলা হবে, শেষে তাদের হাতে সামান্য সম্মানী দিয়ে ছবি তুলে প্রচার করা হবে আর মূল অর্থ অন্যদিকে চলে যাবে। এটি “خُذُوا زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ” (আ‘রাফ ৩১)। মসজিদের সামনে নিজেকে পরিপাটি করে দাঁড়াও এই আয়াতের রূহেরও বিরুদ্ধে। কারণ এখানে ইবাদতের স্থানে ইভেন্ট দাঁড়িয়ে গেছে। ইবাদতের পরিবেশে দুনিয়ার ‘ধামাকা’ এনে দেওয়া হচ্ছে।
এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পড়ে আলেম, মুফতি, ক্বারি ও ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপরই। কারণ তাদের অনুমোদন ও উপস্থিতি থাকলেই এই সব বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা ‘ধর্মীয় রঙ’ পায়। কুরআন বলেছে: “لَوْلَا يَنْهَاهُمُ الرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ عَن قَوْلِهِمُ الْإِثْمَ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ” (মায়িদাহ ৬৩)। কেন তাদের রুহানী নেতা ও আলেমরা তাদের পাপের কথা বলা ও হারাম খাওয়া থেকে নিষেধ করল না? আজকের প্রেক্ষাপটে এই আয়াতের প্রযোজ্যতা স্পষ্ট। যারা আল্লাহর কিতাব জানেন, যারা ক্বিরাআতের মর্যাদা বোঝেন, তারাই যদি বলেন “এই প্ল্যাটফর্মে আমরা থাকব না। কুরআনের নামে যে অর্থ তোলা হবে সেটা সরাসরি মাদরাসায়, হিফজখানায়, গরিব শিক্ষার্থীর স্কলারশিপে, মসজিদের উন্নয়নে যাবে”। তাহলে এই বাণিজ্যিক প্রবণতা অল্প সময়েই ভেঙে পড়বে। তাদের অনুপস্থিতিতেই বোঝা যাবে, এটা কুরআনের শো, কুরআনের দাওয়াত নয়।
কুরআনের মূল উদ্দেশ্যকে সামনে আনা তাই জরুরি। কুরআন ব্যক্তি জীবনে এসেছে শির্ক মুছে একনিষ্ঠ ইবাদত প্রতিষ্ঠা করতে। “وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ” (বাইয়্যিনাহ ৫)। সমাজ জীবনে এসেছে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে। “يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ” (নিসা ১৩৫)। রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলায় এসেছে সালাত, যাকাত, আমর্ বিল মা‘রূফ, নহি আনিল মুনকারকে কর্তৃত্বের আসনে বসাতে “الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ…” (হাজ্জ ৪১)। অর্থনৈতিক উন্নয়নে এসেছে সুদ ও ছলচাতুরি বর্জন করে হালাল ও ন্যায়ভিত্তিক বণ্টন সুনিশ্চিত করতে “أَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا” (বাকারা ২৭৫), “وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ” (নিসা ২৯)। যে কিতাব এই সব ভারী ও বাস্তব দায়িত্বের জন্য নাযিল, তাকে যদি কেবল মাইক্রোফোন, স্টেজ, পুরস্কার ও ট্রফির মধ্যে আটকে দেওয়া হয়, তাহলে মানুষের মনে ঝাপসা ধারণা তৈরি হয় যে কুরআনও যেন একধরনের সাংস্কৃতিক পারফরম্যান্স যার চূড়ান্ত সুফল কয়েকজনই ভোগ করে, সমাজ নয়।
অন্যদিকে এটা অজানা নয় যে, মুসলিম বিশ্বের প্রায় সবখানেই ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশ আর্থিক দুরবস্থায় চলেছে। অসংখ্য অভিভাবক চায় সন্তানকে হিফজ বা আলিয়া বা কওমিতে দিতে। কিন্তু ফি, বোর্ডিং, বই, পোশাক, চিকিৎসা এই সবকিছু মিলিয়ে তাদের সাধ্যে কুলায় না। অনেক প্রতিষ্ঠান মাস শেষে শিক্ষকের ভাতা জোগাড় করতে পারে না। এমন প্রেক্ষাপটে কুরআনের নামে যে বিপুল দান আসে সেটি যদি সরাসরি সেইসব প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে যেত, তাহলে তা হতো কুরআনের রূহসম্মত ব্যবহার। কুরআন যে ‘সদকা-ই-জারিয়া’, ‘ওয়াকফ’, ‘ফি সাবিলিল্লাহ খরচ’ এই সব ইবাদতকে উদ্দীপিত করেছে তার কারণই তো এই যে, আল্লাহর কিতাবের কাজ যেন মানুষের অক্ষমতায় থেমে না যায়। প্রচারমাধ্যম, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার, ইসলামী সংগঠন সবাইয়ের কর্তব্য এই দিকেই উৎসাহিত করা: কুরআনের কাজ কুরআনের ঘরেই হোক, কুরআনের টাকা কুরআনের তলেবে এলেমের কাছেই যাক, কুরআনের ইজ্জত কুরআনবিমুখ প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর না করুক।
অতএব যে আচরণে আল্লাহর কিতাবকে অজুহাত বানিয়ে লোকচক্ষুর সামনে তোলা হয়, কিন্তু আল্লাহর কিতাবের আসল ওজন সমাজে বসানো হয় না। তা কুরআনের দৃষ্টিতে অবমাননাকর আচরণ। কুরআন এই অবমাননার বদলে যে মানসিকতা চেয়েছে তা হলো: “ذَٰلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقْوَى الْقُلُوبِ” (হাজ্জ ৩২) যে আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে বড় করে দেখে, এটা তার অন্তরের তাকওয়ার ফল। কুরআনই তো সবচেয়ে বড় নিদর্শন। তাকে বড় করে দেখতে হলে তাকে আয়, রেট, প্যাকেজ, স্পন্সর, গালাইফটা থেকে মুক্ত রাখতে হবে। কুরআনের প্রতি যে নম্রতা ও ভয় থাকা দরকার সে ভয়ই হারিয়ে যায় যখন কুরআনকে রুটিন ইভেন্ট করা হয়।
সমাধানের পথ তাই স্পষ্ট ও সহজ:
১. কুরআন সংশ্লিষ্ট সব প্রতিযোগিতা, ক্বিরাআত সম্মেলন, তিলাওয়াত মহোৎসব, এসব কেবল মসজিদ, মাদরাসা, শরঈ ট্রাস্ট বা নির্ভরযোগ্য দাওয়াহ প্রতিষ্ঠানের অধীনে হবে, যাদের হিসাব স্বচ্ছ এবং যাদের জীবনও কুরআনের অধীন।
২. ডোনার ও ব্যবসায়ীদের সরাসরি উপকারভোগী প্রতিষ্ঠানের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, মধ্যবর্তী ‘শো’-এর ব্যয় কমিয়ে গরিব ছাত্র ও শিক্ষককে পৌঁছানো হবে।
৩. আলেম ক্বারিগণ নিজেদের উপস্থিতি ও নাম ব্যবহারের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবেন, যেখানে কুরআনকে পণ্য বানানো হবে সেখানে থাকবেন না।ন
৪. গণমাধ্যম কুরআনের নামে বাণিজ্যকে ‘ইসলামি অনুষ্ঠান’ হিসেবে না দেখিয়ে ‘অগ্রাধিকারহীন ব্যয়’ হিসেবে তুলে ধরবে এবং ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঘাটতিকে সামনে আনবে।
৫. শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার আসল কায়দা হবে সাহায্য, মাদরাসায় থাকার পরিবেশ, বই, বৃত্তি, কেরিয়ার পুরস্কারনির্ভর, হঠাৎ আয় নয়। এভাবে বিষয়টি সাধারণ্যের কাছে স্পষ্ট করা গেলে বোঝা যাবে, সমস্যা কোনো তিলাওয়াতপ্রতিযোগিতায় নয়, সমস্যা কুরআনের মর্যাদা ও উদ্দেশ্যকে পাশ কাটিয়ে সেটাকে দুনিয়ার শো ও লাভের জানালা বানানোয়। কুরআন দুনিয়ার শো নয়, রাব্বুল আলামিনের কালাম। তার স্থান মানুষের হৃদয়ে, মানুষের জীবনে, মানুষের রাষ্ট্রব্যবস্থায়, ‘সাবিনা খতমের’ ঝলসানো আলোয় নয়।