খেলাধুলা ডেস্ক • প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৯ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

কলম্বিয়ায় মার্কিন হামলার আশঙ্কা: ট্রাম্প ও পেত্রোর মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে

কলম্বিয়ায় মার্কিন হামলার আশঙ্কা: ট্রাম্প ও পেত্রোর মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো জানিয়েছেন যে তার দেশে মার্কিন সামরিক অভিযানের একটি বাস্তব হুমকি তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোকে তাদের সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প কলম্বিয়াতেও সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন যে এমন একটি অপারেশন মন্দ হবে না। পেত্রো সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব শাসনের এই আকাঙ্ক্ষা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে।

পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই এজেন্টদের কর্মকাণ্ডকে নাৎসি ব্রিগেডের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই বাহিনী কেবল লাতিন আমেরিকানদের ওপরই নিপীড়ন চালাচ্ছে না, বরং মার্কিন নাগরিকদেরও হত্যা করছে। সম্প্রতি মিনিয়াপলিসে একজন মার্কিন নাগরিক আইসিই এজেন্টের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প অবশ্য মাদক পাচার ও অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে এই বাহিনীর তৎপরতাকে সমর্থন করে আসছেন।

কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা মাদক পাচার রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ট্রাম্পের। তিনি সম্প্রতি হুমকি দিয়েছেন যে জলপথে অভিযানের পর এবার স্থলপথেও আক্রমণ শুরু করা হবে। অন্যদিকে পেত্রো জানান, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে লাতিন আমেরিকাকে তাদের স্টেট হিসেবে দেখে আসছে। সাবেক এই গেরিলা নেতা বলেন, কলম্বিয়া যুদ্ধ নয় বরং সংলাপ চায়, তবে আক্রান্ত হলে তারা তাদের পর্বত ও জঙ্গল ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

বর্তমানে কলম্বিয়া বিশ্বের বৃহত্তম কোকেন উৎপাদনকারী দেশ এবং এখানে বিপুল খনিজ সম্পদ রয়েছে। ট্রাম্প পেত্রোকে মাদক ব্যবসায় সহায়তাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করলেও পেত্রো তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ২০ বছর ধরে তিনি মাদক কার্টেলের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন এবং তার শান্তি প্রক্রিয়ার ফলে দেশের অনেক এলাকায় কোকেন উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার ঘটনার পর কলম্বিয়া নিয়ে ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান দক্ষিণ আমেরিকার রাজনীতিতে এক চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও পেত্রোর এই বাগযুদ্ধ কেবল দুই নেতার ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং এটি লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আধিপত্যবাদী নীতির এক চরম বহিঃপ্রকাশ। ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য এখন কলম্বিয়া বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কলম্বিয়ার তেল ও খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্প হার্ডলাইনের যে নীতি নিয়েছেন, তা দক্ষিণ আমেরিকায় একটি দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে পেত্রোর গেরিলা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইঙ্গিত দেয় যে, বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা ভিয়েতনামের মতো রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রূপ নিতে পারে।