কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় অতিরিক্ত বিনিয়োগ ও সম্ভাব্য বাজার অতিমূল্যায়নের আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও জাপানের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন ঘটে। আগের দিনের শক্তিশালী র্যালির পরদিনই বিনিয়োগকারীদের অস্থিরতা বাজার ঘুরে দাঁড়ায়।
দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের মানদণ্ডসূচক একদিনেই প্রায় ৪ শতাংশ কমে যায়। সবচেয়ে বেশি চাপ আসে সেমিকন্ডাক্টর খাত থেকে। দক্ষিণ কোরিয়ার এসকে হাইনিক্সের শেয়ারমূল্য ৮ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। বিশ্বের শীর্ষ চিপ নির্মাতা তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির শেয়ারের দর কমে ৪ শতাংশের বেশি।
জাপানেও একই চিত্র দেখা যায়। নিক্কেই ২২৫ সূচক ২ শতাংশ নিচে নামে। দেশটির সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্রাংশ নির্মাতা অ্যাডভানটেস্টের শেয়ারের দাম ১২ শতাংশের বেশি কমে। এআই খাতে বড় বিনিয়োগকারী সফটব্যাংকের দরও প্রায় ১১ শতাংশে নেমে আসে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছিল যে, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর এআই হার্ডওয়্যার—বিশেষত চিপ ও ডেটা সেন্টারে ব্যাপক ব্যয়—বাস্তব বাজার চাহিদার চেয়ে দ্রুত বাড়ছে। তিন বছর ধরে এআই–সম্পর্কিত শেয়ারের যে র্যালি চলছে, তা এখন সমন্বয়ের মুখে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার এনভিডিয়ার শক্তিশালী আয়ের ঘোষণায় বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি শেয়ারে স্বল্পস্থায়ী উল্লম্ফন দেখা যায়। জাপানের নিক্কেই সূচকও সপ্তাহের সেরা পারফরম্যান্স করে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সেই ইতিবাচক ধারা ভেঙে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে এনভিডিয়ার শেয়ার সেদিন ৫ শতাংশ বেশি দামে লেনদেন শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত ৩ শতাংশের বেশি পতনে দিন শেষ করে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও সকালে ১.৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার পর দিনের শেষে ১.৬ শতাংশ নিচে নামে।
এআই খাতে সম্ভাব্য অতিমূল্যায়নের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক এখন বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। প্রযুক্তিখাতে এই ওঠানামা সামগ্রিক বাজার সূচকে বড় প্রভাব ফেলছে।
এশিয়া সময়কালে এসঅ্যান্ডপি ৫০০–এর ফিউচার সামান্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে শুক্রবার বাজার সামান্য ভালোভাবে খোলার সম্ভাবনা রয়েছে।