এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০১ নভেম্বার ২০২৫, ০৮:০৫ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

এআই চ্যাটবটকে কখনোই যেসব তথ্য দেওয়া উচিত নয়

এআই চ্যাটবটকে কখনোই যেসব তথ্য দেওয়া উচিত নয়

বিশ্বজুড়ে চ্যাটজিপিটিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবটের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। কাজের গতি ও যোগাযোগের সুবিধা বাড়ালেও, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—এই চ্যাটবটগুলো মূলত অ্যালগরিদমনির্ভর সফটওয়্যার, যাদের কোনো অনুভূতি, নৈতিক বিবেচনা বা মানবিক বিচারক্ষমতা নেই।

ফলে এসব চ্যাটবটের সঙ্গে অতিরিক্ত বা সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করলে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস, পরিচয় চুরি, এমনকি আর্থিক ক্ষতির মতো বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের তথ্য কখনোই এআই চ্যাটবটে দেওয়া উচিত নয়। নিচে সেই গুরুত্বপূর্ণ সাতটি বিষয় তুলে ধরা হলো—

১. ব্যক্তিগত তথ্য বা পাসওয়ার্ড:

 চ্যাটবটে দেওয়া তথ্য অনেক সময় সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে এবং তা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ পেতে পারে। তাই কখনোই নিজের পাসওয়ার্ড, লগইন তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ফোন নম্বর বা ঠিকানার মতো তথ্য দেওয়া ঠিক নয়। এমন কিছু লিখবেন না, যা আপনি জনসমক্ষে বলতে চান না।

২. আর্থিক তথ্য:

 ব্যাংক হিসাব নম্বর, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য, মোবাইল ব্যাংকিং পিন বা লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করা বিপজ্জনক। এসব তথ্য ফাঁস হলে আর্থিক ক্ষতি বা পরিচয় জালিয়াতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

৩. ব্যক্তিগত গোপন বিষয়:

 এআই চ্যাটবট কোনো মানুষ নয়—এটি আবেগ বা গোপনীয়তা বোঝে না। তাই পারিবারিক সমস্যা, সম্পর্কের জটিলতা বা ব্যক্তিগত জীবনের সংবেদনশীল বিষয় কখনোই চ্যাটবটে লেখা উচিত নয়।

৪. চিকিৎসা বা ওষুধসংক্রান্ত তথ্য:

 চ্যাটবট সাধারণ স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য দিতে পারে, কিন্তু এটি কখনোই চিকিৎসকের বিকল্প নয়। রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পরিকল্পনা বা ওষুধ সেবনের বিষয়ে ভুল তথ্যের ঝুঁকি থাকে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যগত গোপন তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনাও থাকে।

৫. ব্যক্তিগত সম্পর্কের তথ্য:

 চ্যাটবটের কোনো আবেগ বা সহানুভূতি নেই। তাই রোমান্টিক বা সম্পর্কভিত্তিক আলাপ এড়িয়ে চলাই নিরাপদ ও উপযুক্ত। এসব কথোপকথন সংরক্ষিত হয়ে গেলে পরবর্তীতে তা অপব্যবহার হতে পারে।

৬. গোপন তথ্য বা স্বীকারোক্তি:

 অনেকে মানসিক চাপ বা একাকিত্ব কমাতে চ্যাটবটের সঙ্গে নিজের গোপন কথা বলেন। কিন্তু এই তথ্যগুলো অনলাইনে সংরক্ষিত থাকতে পারে, যা পরে প্রকাশের ঝুঁকি তৈরি করে। তাই ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি বা গোপন তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

৭. যেসব তথ্য প্রকাশ করতে চান না:

 যে তথ্য আপনি কারও সঙ্গে শেয়ার করতে চান না, তা কখনোই চ্যাটবটে লিখবেন না। কারণ সাধারণ কথোপকথনের তথ্যও অনেক সময় ডেটা ট্রেনিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়, যা আপনার অজান্তেই অন্যের কাছে চলে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এআই চ্যাটবট ব্যবহার করার সময় সচেতন থাকা জরুরি। যেহেতু এই প্রযুক্তি এখনো বিকাশমান, তাই অনলাইনে নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া