জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইরান শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত কোনো চুক্তি থেকে যদি তেহরান প্রত্যাশিত সুবিধা না পায়, তাহলে সেই সমঝোতা মেনে চলতে ইরান নিজেকে বাধ্য মনে করবে না।
আল অ্যারাবিয়া ইংলিশের এক বিশেষ প্রতিবেদনে গালিবাফের এ বক্তব্য উঠে এসেছে। এমন এক সময় তিনি এ মন্তব্য করলেন, যখন গত মাসে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ইসলামাবাদ স্মারকপত্র কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই যুদ্ধবিরতি চুক্তির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নৌ অবরোধ আরোপ এবং ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গালিবাফ বলেন, ইরান কখনোই যুদ্ধকে স্বাগত জানায় না। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে তেহরানকে সবসময় শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইরান কূটনীতি ও আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে। কিন্তু সংলাপের অর্থ কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ বা নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসা নয়।
গত এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া গালিবাফ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছেন। তার ভাষায়, আলোচনা ও প্রতিরোধ একই কৌশলের অংশ। এ দুটিকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখা রাজনৈতিকভাবে ভুল হবে।
গত শুক্রবারও তিনি ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের গভীর অনাস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আরও কোনো চুক্তি ভঙ্গ করে, তাহলে ইরান সর্বাত্মক প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের এই অবস্থানের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তাকে হত্যার একটি কথিত ইরানি ষড়যন্ত্রের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, প্রয়োজন হলে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত তথ্য মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে সরবরাহ করেছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা। তবে তেহরান এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
দুই দেশের পাল্টাপাল্টি কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।