এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০৭ নভেম্বার ২০২৫, ০৭:১০ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছরগুলোর একটিতে রূপ নিচ্ছে ২০২৫:জাতিসংঘ

ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছরগুলোর একটিতে রূপ নিচ্ছে ২০২৫:জাতিসংঘ

বিশ্ব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এক ভয়াবহ জলবায়ু সংকটের দিকে। জাতিসংঘের সংস্থা ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সাল ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ বছর হতে যাচ্ছে। সংস্থার ১৭৬ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সাল হবে মানব ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণ তিনটি বছর।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ডব্লিউএমও জানায়, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। একই সঙ্গে মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রাও ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আগামী সপ্তাহে ব্রাজিলে শুরু হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০। তার আগেই এই সতর্কতা জানিয়ে সংস্থাটি বলছে, গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থান করছে।

ডব্লিউএমও মহাপরিচালক সেলেস্টে সাওলো বলেন, আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে প্যারিস চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে পূরণ হয়নি।

২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বিশ্ব নেতারা উষ্ণতা বৃদ্ধিকে ২ ডিগ্রির নিচে এবং সম্ভব হলে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে উষ্ণতা দ্রুত বেড়েই চলছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা মানবজাতির জন্য এক নৈতিক ব্যর্থতা। তার মতে, ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির ওপরে উষ্ণতা বৃদ্ধি মানে হলো অর্থনৈতিক বিপর্যয়, বৈষম্য ও এমন ক্ষতি, যা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলে, যেখানে বরফের পরিমাণ ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। একইসঙ্গে বিশ্বজুড়ে বন্যা, দাবদাহ ও দাবানলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে জীবিকা, খাদ্যনিরাপত্তা ও মানবজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তবে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির কথাও জানিয়েছে ডব্লিউএমও। ২০১৫ সালে যেখানে মাত্র ৫৬টি দেশে আগাম দুর্যোগ সতর্কতা ব্যবস্থা ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৯টিতে। তবে এখনও বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ দেশে এমন ব্যবস্থা অনুপস্থিত, যা দ্রুত কার্যকর করা প্রয়োজন বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে।