ইতালি নারী হত্যাকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে নতুন ফেমিসাইড আইন পাস করেছে। মঙ্গলবার, আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে বিলটির পক্ষে ভোট দেন। নতুন আইনে নারী হওয়ার কারণে বিদ্বেষমূলকভাবে হত্যা করলে শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এই আইন পাসের মাধ্যমে ইতালি বিশ্বে হাতে গোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় যুক্ত হলো, যারা নারী হত্যাকে আলাদা শ্রেণিতে সংজ্ঞায়িত করেছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে দেশটিতে আগে থেকেই আলোচনা ছিল, কিন্তু ২০২২ সালে জিউলিয়া চেকেত্তিনকে তার সাবেক প্রেমিক ফিলিপ্পো তুরেত্তার হাতে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর আইন প্রণয়নের দাবি তীব্র হয়ে ওঠে। ঘটনার পর জিউলিয়ার বোন এলেনা সমাজের পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর সমালোচনা করলে তা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে পরিবর্তনের দাবি জানায়।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বিলটি উপস্থাপন করেন। সরকার ও বিরোধী দলের এমপিরা একসঙ্গে সমর্থন জানিয়ে এটি পাস করান। অধিবেশনকালে অনেক সংসদ সদস্য লাল রিবন ও লাল পোশাক পরে নারী নির্যাতনের শিকারদের প্রতি সংহতি জানান।
একটি বিশেষজ্ঞ কমিশন দেশব্যাপী নারীদের হত্যার ২১১টি ঘটনা বিশ্লেষণ করে খসড়া আইনের ভিত্তি তৈরি করে। কমিশনের সদস্য বিচারক পাওলা দা নিকোলার মতে, এসব হত্যাকাণ্ডকে ভালোবাসা বা ঈর্ষার কারণে ঘটেছে বলা প্রকৃত উদ্দেশ্যকে আড়াল করে। তার ভাষায়, এর মূলে রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মনোভাব।
ইতালির আগে সাইপ্রাস, মাল্টা ও ক্রোয়েশিয়া তাদের ফৌজদারি বিধিতে ফেমিসাইডকে আলাদা শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি