এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বার ২০২৫, ০৯:৫৯ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

ইউটিউব গাজায় ইসরায়েলি অপরাধের প্রমাণ মুছে দিয়েছে

ইউটিউব গাজায় ইসরায়েলি অপরাধের প্রমাণ মুছে দিয়েছে

গুগলের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব গাজায় ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ HB হিসেবে থাকা সাত শতাধিক ভিডিও মুছে ফেলেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্ট। বুধবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ভিডিওগুলো ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) দেওয়া হয়েছিল।

দ্য ইন্টারসেপ্ট জানায়, ইউটিউব যুক্তি দেখিয়েছে যে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, ফলে “বাণিজ্য ও রপ্তানি আইন” অনুসারে ভিডিওগুলো সরানো হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আল-হক্ক, আল-মিজান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস এবং প্যালেস্টাইনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস—এই তিন ফিলিস্তিনি সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, কারণ তারা ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আইসিসির সঙ্গে কাজ করছিল।

চলতি বছরের অক্টোবরে ইউটিউব এসব ভিডিও সরিয়ে ফেলে। এর ফলে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলা, ধ্বংসযজ্ঞ ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর নির্যাতনের দীর্ঘদিনের নথি হারিয়ে যায়। ভিডিওগুলোর মধ্যে ছিল ফিলিস্তিনি–আমেরিকান সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ হত্যার তদন্ত ফুটেজ এবং “দ্য বিচ” নামের প্রামাণ্যচিত্র, যেখানে শিশুদের ওপর ইসরায়েলি বিমান হামলার দৃশ্য ছিল।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ইউটিউবের এই পদক্ষেপ কার্যত ইসরায়েলি অপরাধের প্রমাণ গোপন করার প্রচেষ্টাকে সহায়তা করছে। ডেমোক্রেসি ফর দ্য আরব ওয়ার্ল্ড নাউ-এর পরিচালক সারা লিয়া হুইটসন মন্তব্য করেন, “এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ শেয়ার করা কোনো নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হতে পারে।” সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটস ইউটিউবের সিদ্ধান্তকে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ ধ্বংসের প্রচেষ্টা হিসেবে নিন্দা জানায়।

আল-হক্ক জানায়, এই পদক্ষেপ মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য এক ভয়াবহ পশ্চাৎপদতা। প্যালেস্টাইনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস অভিযোগ করে, ইউটিউব অপরাধীদের জবাবদিহি থেকে রক্ষা করছে এবং গুগল ইসরায়েলি আগ্রাসনের শিকারদের কণ্ঠরোধের ষড়যন্ত্রে অংশ নিচ্ছে। আল-মিজান জানিয়েছে, তাদের চ্যানেল কোনো সতর্কতা ছাড়াই মুছে দেওয়া হয়েছে।

এই তিন সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমেও একই ধরনের সেন্সরশিপ আসতে পারে, যাতে আরও যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ হারিয়ে যায়। দ্য ইন্টারসেপ্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইউটিউবের সেন্সরিং আচরণ পক্ষপাতদুষ্ট—প্রো-ইসরায়েল ভিডিওগুলো বেশির ভাগই অক্ষত থাকলেও ফিলিস্তিনপন্থী কনটেন্ট বারবার টার্গেট করা হচ্ছে।

এই ঘটনাগুলো ঘটছে এমন এক সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এর পর যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির বিচারক ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এদিকে, ২৮ অক্টোবর উইকিপিডিয়ায় “গাজা গণহত্যা” শিরোনামের পেজটি সম্পাদনা থেকে লক করে দেওয়া হয়। পরে উইকিপিডিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েলস হস্তক্ষেপ করে বলেন, পেজটি “পক্ষপাতদুষ্ট” এবং “তাৎক্ষণিক সংশোধন” প্রয়োজন। তাঁর এই মন্তব্যে সম্পাদক ও মানবাধিকারকর্মীরা তীব্র সমালোচনা করেন। তারা অভিযোগ করেন, ওয়েলস রাজনৈতিক চাপে নতি স্বীকার করেছেন এবং জাতিসংঘ ও একাডেমিক গবেষণার তথ্য খর্ব করার চেষ্টা করছেন, যেখানে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য ইন্টারসেপ্ট