ইউক্রেনে সরকারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় এক বছর পর প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ইউক্রেনের আইন অনুযায়ী শুধু প্রধানমন্ত্রীই নন, পুরো মন্ত্রিসভাকেই পদত্যাগ করতে হবে।
রোববার (১৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি জানান, সরকারকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শুধু মন্ত্রিসভাই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর শীর্ষ পর্যায়েও রদবদল করা হবে। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন বা বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি।
জেলেনস্কি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো দায়িত্বশীল ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তার অবদানের প্রশংসা করে তিনি জানান, ইউক্রেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংসদের সহযোগিতায় দ্রুত এই পরিবর্তন সম্পন্ন হবে বলেও জানান তিনি।
অর্থনীতিবিদ ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের উপপ্রধান ছিলেন। পাশাপাশি টানা চার বছর উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্য খাতের দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে গত এক বছরে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে ইউক্রেন সরকার চাপে পড়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কোম্পানি এনারগোআটমকে ঘিরে প্রায় ১০ কোটি ডলারের কমিশন কেলেঙ্কারির অভিযোগ এবং বহুল আলোচিত ‘মিডাস’ মামলায় প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের নাম উঠে আসায় সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে রয়েছেন বর্তমান জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শমিহাল, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ এবং রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাফতোগাজের প্রধান সেরহি কোরেতসকি। বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াকের দাবি, কোরেতস্কির সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোকে যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।