যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্র্যময় অভিবাসী ভিসা বা ডিভি লটারি কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস্টি নোম বৃহস্পতিবার রাতে এক বিশেষ বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির দুই শিক্ষার্থী এবং এমআইটি’র একজন অধ্যাপককে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি কয়েক বছর আগে এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী নোম উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০১৭ সালে ডিভি লটারির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে গ্রিন কার্ড পেয়েছিলেন। প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, আমেরিকানদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই বিতর্কিত কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করে ডিভি ভিসা ইস্যু করা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, কারা দেশে প্রবেশ করছে সে সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বজায় থাকবে। নব্বইয়ের দশকে মার্কিন কংগ্রেসের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই প্রোগ্রামের আওতায় প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে লটারির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হতো। এই প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বা কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হয় এবং তাদের কয়েক ধাপের নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই এই ব্যবস্থার সমালোচনা করে আসছে। তাদের মতে, এটি মেধাভিত্তিক নয় এবং এর ফলে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অভিযুক্ত হামলাকারী ক্লদিও ম্যানুয়েল নেভস ভ্যালেন্তের বয়স ৪৮ বছর এবং তিনি পর্তুগালের নাগরিক ছিলেন। পুলিশি নথিতে দেখা গেছে, ডিভি লটারিতে ভিসা পাওয়ার অনেক আগে ২০০০ সালে তিনি স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন এবং ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন এবং পরবর্তীতে ডিভি লটারির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি পান। সম্প্রতি ব্রাউন ইউনিভার্সিটি এবং এমআইটি চত্বরে প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন ছিলেন তিনি। কয়েক দিনের তল্লাশির পর নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কংগ্রেসের মাধ্যমে পাশ হওয়া একটি প্রোগ্রাম প্রশাসন কতটুকু সময় স্থগিত রাখতে পারবে তা নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরির সুযোগ রয়েছে। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও করোনা মহামারির সময় এই কার্যক্রম একবার স্থগিত করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বাইডেন প্রশাসন পুনরায় চালু করে। বর্তমান সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত আমেরিকার অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের কড়াকড়ির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের ফলে প্রতি বছর লটারির আশায় থাকা কোটি কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।