আটলান্টিক মহাসাগরে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ধাওয়া করার পর অবশেষে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি রুশ পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার জব্দ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মেরিনেরা নামের এই জাহাজটি আটকের অভিযানকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আইসল্যান্ডের নিকটবর্তী গভীর সমুদ্রে মার্কিন কোস্ট গার্ড যখন জাহাজটিতে আরোহণ করে, তখন সেখানে রুশ নৌবাহিনীর সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সরাসরি সংঘাত ছাড়াই জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয় মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইউরোপীয় কমান্ড তথা ইউকোম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র সুরক্ষা এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের যৌথ সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে জাহাজটি জব্দ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, অভিযানের সময় আশেপাশে রুশ যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ছিল, তবে নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যানুযায়ী মার্কিন সেনারা যখন জাহাজে ওঠে তখন সেখানে রুশ নৌযানের কোনো প্রত্যক্ষ অবস্থান দেখা যায়নি। এতে করে দুই পরাশক্তির মধ্যে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে স্কটল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থানরত এই ট্যাংকারটি এখন কোনো জ্বালানি বহন না করলেও অতীতে এটি নিয়মিতভাবে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল পরিবহন করত। গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার ওপর নৌ অবরোধ জারির নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই এই জাহাজটির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়। ভেনেজুয়েলা সরকার এই পুরো প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক চুরি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ইতিপূর্বে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনার পর থেকে এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত মাসে ক্যারিবীয় সাগরে। তখন বেলা ১ নামে পরিচিত এই জাহাজটিতে তল্লাশির চেষ্টা চালিয়েছিল মার্কিন কোস্ট গার্ড। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, জাহাজটি ইরানি তেল পরিবহন করে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করেছে। সেই যাত্রায় তল্লাশি এড়াতে সক্ষম হলেও জাহাজটি দ্রুত নিজেদের নাম বদলে মেরিনেরা রাখে এবং গায়ানার বদলে রাশিয়ার পতাকায় পুনঃনিবন্ধিত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত আটলান্টিকের নীল জলরাশিতে দীর্ঘ ধাওয়ার পর মার্কিন বাহিনীর হাতেই ধরা পড়তে হলো বিতর্কিত এই রুশ ট্যাংকারটিকে।