যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই দেশ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা কাঠামোর সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই চুক্তিতে উপনীত হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং যৌথভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে জানান, এই চুক্তি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চুক্তিটির মেয়াদ ১০ বছর। এর আওতায় দুই দেশ যৌথ মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন, তথ্য বিনিময় এবং নিরাপত্তা সমন্বয়ে কাজ করবে। হেগসেথ বলেন, “এই কাঠামোগত চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করবে।”
চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “এই চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের এই নতুন প্রতিরক্ষা সমঝোতা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও প্রযুক্তি ভাগাভাগির ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে।
চুক্তিটি শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দুই দেশের কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচন করবে। যৌথ উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দুই দেশ তাদের কৌশলগত সক্ষমতা আরও বাড়াতে পারবে।