এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বার ২০২৫, ০৮:২৩ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

আইআরএস–আইস এর তথ্য আদান–প্রদান স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত

আইআরএস–আইস এর তথ্য আদান–প্রদান স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে করদাতাদের ঠিকানা আইসের হাতে তুলে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগে বড় ধাক্কা দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। শুক্রবার দেওয়া রায়ে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, আইআরএস কোনোভাবেই সম্ভাব্য অনথিভুক্ত করদাতাদের বাড়ির ঠিকানা আইসের কাছে হস্তান্তর করতে পারবে না। ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক বহিষ্কার পরিকল্পনার জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইমিগ্রেশন–অধিকারকর্মী এবং নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো অনেক দিন ধরেই এই তথ্য বিনিময় চুক্তির বিরোধিতা করে আসছিল। তাঁদের অভিযোগ, করদাতাদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে প্রশাসন ব্যাপক ধরপাকড়ের উদ্যোগ নিচ্ছে—যেখানে বহু অনথিভুক্ত অভিবাসী বহু বছর ধরে নিয়মিত কর পরিশোধ করে আসছেন।

বিচারক কোলিন কোলার–কটেলি তাঁর ৯৪ পৃষ্ঠার রায়ে উল্লেখ করেন, সংবেদনশীল করদাতার তথ্য গোপন রাখার যে কঠোর আইনগত বাধ্যবাধকতা আইআরএসের রয়েছে, আইসকে ঠিকানা সরবরাহের মাধ্যমে তা লঙ্ঘিত হয়েছে।

তিনি মন্তব্য করেন, অভিবাসন অবস্থা যেমনই হোক না কেন, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া করদাতাদের তথ্য প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই।

আদালতের নথিতে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত আইআরএস মাত্র ৪৭ হাজার সম্ভাব্য অনথিভুক্ত ব্যক্তির তথ্য আইসকে দিয়েছে, যা প্রশাসনের চাহিদার খুবই অল্প অংশ। প্রশাসন চেয়েছিল কয়েক মিলিয়ন মানুষের তথ্য, যাদের বিরুদ্ধে আগেই বহিষ্কারের নির্দেশ রয়েছে। এই মতপার্থক্যগুলোর কারণে আইআরএস নেতৃত্ব ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে মাসব্যাপী উত্তেজনা তৈরি হয়, যা বছরের মধ্যে একাধিক আইআরএস কমিশনারের পদত্যাগ ও অপসারণের কারণ হিসেবে ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে ছিলেন ট্রাম্পের অনুগত বিলি লং।

বিচারকের রায় অনুযায়ী, অনথিভুক্ত করদাতারা এই নীতির কারণে তাৎক্ষণিক ক্ষতির মুখে পড়ছিলেন এবং তথ্য বিনিময় বন্ধ না হলে তা বাড়তেই থাকত। বিচারক আরও উল্লেখ করেন, আইসের অনেক যুক্তি বিশ্বাসযোগ্য নয়—যেমন তারা দাবি করেছিল একজন মাত্র এজেন্ট হাজার হাজার সম্ভাব্য মামলার তদারকি করছেন, যা বাস্তবে অসম্ভব।

মামলাটি করে ‘সেন্টার ফর ট্যাক্সপেয়ার রাইটস’, যারা বলছে এই নীতি দরিদ্র করদাতাদের জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করছিল। যুক্তরাষ্ট্রে বহু অনথিভুক্ত অভিবাসী দশকজুড়ে কর দিয়ে আসছেন, কারণ আইআরএস তাদের আশ্বস্ত করেছিল—কর দেওয়ার তথ্য অভিবাসন সংস্থাগুলোর হাতে যাবে না।

রায়ের পর বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাঁদের মতে, ওয়াটারগেট–পরবর্তী সময়ে গোপনীয়তা রক্ষায় যে আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, সেটি রাজনৈতিক অপব্যবহার ঠেকাতেই তৈরি—এবং আইআরএস ও আইসের এই উদ্যোগ সেই মূলনীতির পরিপন্থী ছিল।