রিটেইল জায়ান্ট অ্যামাজন ভবিষ্যতে রোবটের ব্যবহার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। সিয়াটলভিত্তিক এই কোম্পানি প্রায় পাঁচ লাখ কর্মীর কাজ ধীরে ধীরে রোবট দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে চায়। বিষয়টি উঠে এসেছে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যামাজনের অভ্যন্তরীণ নথি ও কর্মীদের সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, কোম্পানির লক্ষ্য তাদের কার্যক্রমের প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় করা।
এদিকে ম্যাশেবলের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে অ্যামাজন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান। বিশ্বজুড়ে তাদের কর্মীসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। করোনা মহামারির সময় অনলাইন কেনাকাটার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপকভাবে নিয়োগ বাড়িয়েছিল। তবে আগামী বছরগুলোতে নিয়োগ কমানোর পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও, অ্যামাজন আশা করছে ২০৩৩ সালের মধ্যে বিক্রির পরিমাণ দ্বিগুণ হবে।
প্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যমটি জানায়, অ্যামাজনের বিপুল সংখ্যক কর্মী বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত গুদামগুলোতে কাজ করেন, যেখানে তারা অনলাইন অর্ডার প্যাক ও ক্রেতাদের কাছে পাঠানোর দায়িত্বে থাকেন।
তবে পরিবর্তনের ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার শ্রেভপোর্টে কোম্পানির নতুন স্থাপনায় প্রায় এক হাজার রোবট এখন অধিকাংশ প্যাকিং ও শিপিংয়ের কাজ করছে। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এই স্থাপনাটিতে মানবকর্মীর সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
অ্যামাজনের নথি অনুসারে, ২০২৬ সালের মধ্যে শ্রেভপোর্ট কেন্দ্রটিতে আগের তুলনায় অর্ধেক কর্মীই যথেষ্ট হবে। এই মডেলটি ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ আরও প্রায় ৪০টি স্থাপনায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সম্ভাব্য ছাঁটাই বা নিয়োগ হ্রাসের প্রভাব মোকাবিলায় কোম্পানিটি বড় ধরনের জনসংযোগ প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, “রোবট”, “এআই” বা “অটোমেশন” শব্দের পরিবর্তে ‘অ্যাডভান্সড টেকনোলজি’ ও ‘কোবট’ (মানুষের সঙ্গে কাজ করা রোবট) শব্দ ব্যবহার করা হবে, যাতে পরিবর্তনটিকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা যায়।
অ্যামাজন দাবি করছে, রোবটের ব্যবহারে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান তৈরি হবে—বিশেষত রোবট পরিচালনা, প্রোগ্রামিং ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে। তবে এসব নতুন চাকরির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হবে এবং তাতে তুলনামূলকভাবে কমসংখ্যক কর্মীই যুক্ত হতে পারবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।