এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৯ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৩:৫৩ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

অস্ট্রেলিয়ায় বিদ্বেষ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ: আলবানিজ সরকারের নতুন ঘোষণা

অস্ট্রেলিয়ায় বিদ্বেষ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ: আলবানিজ সরকারের নতুন ঘোষণা

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি বিচে একটি হানুক্কাহ উৎসবে বন্দুকধারীদের হামলায় ১০ বছর বয়সী শিশু ও একজন হলোকাস্ট সারভাইভারসহ ১৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ভয়াবহ হামলার প্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বৃহস্পতিবার বর্ণবাদ এবং সেমিটিজম বিরোধী কঠোর নতুন আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন।

নতুন এই আইনের আওতায় ঘৃণা ও বিভেদ ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে যারা সহিংসতা ছড়ায় এমন প্রচারক এবং উগ্রবাদী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে যাতে ঘৃণা ছড়াতে পারে এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখান করা যায়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ওপর হামাসের হামলা এবং পরবর্তী গাজা যুদ্ধের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদি বিদ্বেষ এবং বর্ণবাদী আক্রমণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এই অশুভ শক্তিকে রুখতে সরকারকে এখন আরও দৃঢ় ভূমিকা নিতে হবে। যদিও ইতিপূর্বে নাৎসি প্রতীক প্রদর্শন নিষিদ্ধ এবং উপাসনালয়ে হামলার বিরুদ্ধে আইন কঠোর করা হয়েছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, নতুন আইনে অপরাধের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হবে। বিশেষ করে যারা সরাসরি সহিংসতা না উস্কে দিলেও ক্রমাগত অমানবিক ভাষা ব্যবহার করে সমাজকে বিভাজিত করার চেষ্টা করেন, তাদের এখন আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এতদিন যারা আইনের ফাঁক দিয়ে রক্ষা পেত, নতুন আইন তাদের পথ বন্ধ করে দেবে।

এদিকে বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের একাংশ এই পদক্ষেপকে বিলম্বিত বলে সমালোচনা করেছে। হামলার শিকার হওয়া পরিবারের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি এবং আগে দেওয়া সতর্কবার্তাগুলো গুরুত্ব না দেওয়ায় তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এর জবাবে আলবানিজ কিছুটা নমনীয় হয়ে স্বীকার করেছেন যে সরকার নিখুঁত নয় এবং অতীতে কিছু ভুল হতে পারে।

নতুন নির্দেশনায় ইহুদি বিদ্বেষ রুখতে বিশেষ দূতের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গণমাধ্যমের বিষয়বস্তু পর্যবেক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণবাদ রুখতে ব্যর্থ হলে সরকারি অনুদান বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বর্ণবাদের সংজ্ঞা নির্ধারণ। বর্তমানে সিডনির সেই শোকাতুর সৈকতে নিহতদের স্মরণে ফুল ও মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ, যারা এক শান্ত অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যাশায় বিভোর।