নতুন সরকার গঠনের ঘোষণা থেরেসা মের

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পরও তিনি একটি ছোট দলের সমর্থন নিয়ে নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন।

থেরেসা মে বলেছেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের দল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) সমর্থন নিয়ে তিনি সরকার গঠন করতে চান।

কনজারভেটিভ পার্টিকে সরকার গঠনে সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে ডিইউপি কী পাবে, তা অবশ্য পরিষ্কার নয়।

শুক্রবার সরকার গঠনের অনুমতি নিতে বাকিংহাম প্যালেসে রানী এলিজাবেথের সঙ্গে দেখা করতে যান থেরেসা মে। সেখান থেকে ফিরে এক বক্তৃতায় থেরেসা মে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ বা ব্রেক্সিটের আলোচনা ১০ দিনের মধ্যে শুরু হবে। এমন অবস্থায় দেশে স্থিতিশীলতা দরকার।

তিনি জানান, সরকার গঠনের বৈধতা তার সরকারের রয়েছে।

তবে কনজারভেটিভ পার্টি সরকার গঠন করলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থেরেসা মের অবস্থান হবে খুবই দুর্বল এবং তিনি হয়তো বেশিদিন ক্ষমতায় টিকতেও পারবেন না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বৃহস্পতিবারের সাধারণ নির্বাচনে বেশির ভাগ আসনের ফলাফলে কনজারভেটিভ পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ঝুলন্ত সংসদ হতে চলেছে। ৩৪৯টি ঘোষিত আসনের মধ্যে কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৩১৮টি আসন। সরকার গঠনের জন্য দরকার ৩২৬টি আসন। ফলে কনজারভেটিভ পার্টি ছোট দল ডিইউপিকে নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। নির্বাচনে ডিইউপি পেয়েছে ১০টি আসন।

থেরেসা মে হঠাৎ করে সাধারণ নির্বাচন ডাকার আগে সংসদে দলের যত আসন ছিল এই নির্বাচনে আসন সংখ্যা তার চেয়েও কমেছে এবং মেকে তার সিদ্ধান্তের জন্য লজ্জায় পড়তে হয়েছে।

নির্বাচনে লেবার পার্টি ২৬১ এবং এসএনপি ৩৫ আসন পেয়েছে। লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন মেকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে থেরেসা মে বলেছেন, তার দল দেশে স্থিতিশীলতা ‘নিশ্চিত’’ করবে।

ঝুলন্ত পার্লামেন্ট অবশ্য ব্রিটেনের জন্য নতুন নয়। ২০১০ সালে কনজারভেটিভরা লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের নিয়ে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠন করেছিল। এর আগে ১৯৭৪ সালে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট গঠন করে লেবার পার্টিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল কনজারভেটিভরা। অবশ্য, ওই পার্লামেন্ট বেশি দিন টেকেনি। মাত্র আট মাসের মাথায় নতুন নির্বাচন করতে হয়েছিল।

You Might Also Like