বান্দরবানে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র তাণ্ডবে অন্তত শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

গাছপালা ভেঙে গেছে এবং ক্ষতি হয়েছে ফসলের। রাত থেকে জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ সকাল থেকে মোরার তাণ্ডবে, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তবর্তী তুমব্র, ঘুনধুম, বাইশারী, আলীকদম, লামা, রোয়াংছড়ি, রুমা ও জেলা সদরের প্রত্যন্ত এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লামার পৌর এলাকার দেড় সহস্রাধিক কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে অন্তত দুইজন। এ ছাড়া লামা-রুপসীপাড়া সড়ক, লামা-আলীকদম সড়কের ওপর গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২০টি ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড এবং সরই ইউনিয়নে ৩০টির মতো ঘরবাড়ি ভেঙে যায় এবং বগাইছড়ি, হারগাজা, সাফেরঘাটা ও বনপুর সড়ক এবং লামা-সুয়ালক, ক্যায়াজুপাড়া-লুলাইং ও ক্যায়াজুপাড়া-ধুইল্যাপাড়া সড়কের ওপর গাছ পড়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

জেলার রোয়াংছড়ি ও আলীকদম উপজেলায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে, বিধ্বস্ত হয়েছে অন্তত ২০ ঘরবাড়ি। থানচি উপজেলা থেকে তিন্দু, রেমাক্রি ও বড়মদক এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে পর্যটকবাহী সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আটকে পড়া পর্যটকদের দুর্গম তিন্দু ও রেমাক্রি এলাকায় নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বিজিবির মাধ্যমে খবরা-খবর রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নৌ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।’

এদিকে সকাল থেকে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকার কারণে জেলায় বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করা হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলায় ৭টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রাখা হয়। তবে জেলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা জানা সম্ভব হয়নি, চালু হয়নি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা।

বান্দরবান জেলার নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ বলেন, জেলার কোনো উপজেলা থেকে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

You Might Also Like