‘রিয়াদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে হাসিনার যোগদান বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যের’

রিয়াদে অনুষ্ঠিত ‘আরব ইসলামিক আমেরিকান (এইএ) শীর্ষ সম্মেলনে’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ দেয়াকে ‘বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যে’র বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার রাজধানীর পূর্বাণী হোটেলে গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপির মহাসচিব বলেন, “কয়েক দিনে নিশ্চিয়ই লক্ষ্য করেছেন- সৌদি আরবে একটা বড় সম্মেলন হচ্ছে। মজার ব্যাপার এই সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো। যাতে প্রধান হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সম্পর্কে মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু পৃথিবীর সব মানুষই জানেন তিনি কী করছেন এবং কী কথা বলেছেন। আমাদের দুর্ভাগ্য সেখানে ট্রাম্প প্রায় সভাপতিত্ব করছেন বলা যায়। সেখানে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীও গেছেন।”

সৌদি-আমেরিকা অস্ত্র চুক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমেরিকা থেকে সৌদি আরব প্রায় সাড়ে ৭শ’ মিলিয়নের অস্ত্র কিনবে। এক আধ বিলিয়ন নয়, আজ পর্যন্ত যতগুলো ডিল হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় ডিল হচ্ছে এটা।”
‘গণতন্ত্রের মুখোশে এক ব্যক্তির শাসন’

বাংলাদেশে ‘গণতন্ত্রের মুখোশে’ ‘এক ব্যক্তির শাসন’ চলছে বলেও দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশে একটা খারাপ সময় চলছে। আমি বলি যে, সবচেয়ে খারাপ সময়। কারণ এখানে যারা দেশ শাসন করছে একটা মুখোশ পরে, তারা প্রকৃতপক্ষে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে। শুধু একদলীয় বললে বোধহয় ভুল বলা হবে, এক ব্যক্তির শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে। এখানে মানবাধিকার বলতে কিছু নেই, কাউকে জিজ্ঞাসা করা যায় না। জবাবদিহিতা বলতে কিছু নেই। একটা পার্লামেন্ট আছে নামে মাত্র, যে পার্লামেন্টে বিরোধী দল আছে, যাকে সবাই বলে গৃহপালিত বিরোধী দল।”

‘খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে তল্লাশিকে অশনি সংকেত’

বিএনপি খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পুলিশের তল্লাশির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে তল্লাশির নামে যে আক্রমণ করা হলো সেটা কার্যালয়ের উপর আক্রমণ নয়, এটা গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ, দেশের মানুষের উপর আক্রমণ। আগেই বলেছি এটা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। দেশে রাজনৈতিক নতুন সংস্কৃতির ধারা তৈরি করার প্রস্ততি চলছিল এটাকে ধ্বংস করে দেয়ার সরকার এই কাজটি করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের তল্লাশির প্রতিবাদে সারাদেশের মানুষ প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেছে। সেখান থেকে শতশত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগামী ২৪ মে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার অনুমতি চেয়েছি। জানি না সরকার অনুমতি দেবে কী দেবে না। আশা করি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং সমাবেশ করার অনুমতি দেবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বিবৃতি

এদিকে, খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পুলিশের তল্লাশি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরকারের এক বিরাট ষড়যন্ত্র বলে মনে করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি। দেশবাসীকে এই হীন ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের বিষয়ে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানিয়েছে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম।
গত ২০ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পুলিশ তল্লাশি চালায়। এর একদিন পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত সোমবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

You Might Also Like