হারলেই বিদায়!

ব্রাজিল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের পালা শেষ হয়ে আজ শুরু নকআউট পর্ব। বিশ্বকাপ যেমন শুরু হয়েছিল স্বাগতিকদের ম্যাচ দিয়ে তেমনি দ্বিতীয় রাউন্ডেও আজ প্রথমেই মাঠে নামছে ব্রাজিল, প্রতিপক্ষ চিলি। বেলো হরিজোন্তের মিনেইরো স্টেডিয়ামে শুরু বিশ্বকাপের ‘ডু অর ডাই’ পর্ব। জিতলে বিশ্বকাপের শেষ আটে, হারলে বিদায়।

এমনই যখন সমীকরণ তখন ফেভারিট আর আন্ডারডগের সমস্ত তত্ত্ব আমাজনের গভীর জলে। গ্রুপ পর্ব এখন ইতিহাস। এখন শুরু বিশ্বকাপের আসল লড়াই। যেখানে অঘটন ঘটতে সময় লাগে না।

মূল প্রিভিউয়ে যাওয়ার আগে একটি কাকতালীয় তথ্য। গত ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ২৮ জুনই দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল এবং চিলি। সেই ম্যাচে মার্সেলো বিয়েলসার চিলিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শেষ আটে ব্রাজিল। এবারও ক্যালেন্ডারের সেই একই তারিখে ফের ব্রাজিলের মুখোমুখি চিলি এবং সেই দ্বিতীয় রাউন্ডেই। তাতে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিই ঘটবে নাকি নতুন ইতিহাস গড়বে চিলি সেটাই দেখার।

তারও আগে বিশ্বকাপে আরও দু’বারের মুখোমুখিতেও ব্রাজিলের কাছে হেরেছে চিলি। ১৯৬২ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে চিলি শেষ চারে ব্রাজিলের কাছে হেরেছিল ৪-২ গোলে। আর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপেও সেই দ্বিতীয় রাউন্ডেই ইভান জামোরানো আর মার্সেলো সালাসের চিলিকে ৪-১ গোলে ধসিয়ে দিয়েছিল ব্রাজিল। তার মানে বিশ্বকাপে কখনই ব্রাজিলকে হারাতে পারেনি চিলি। সব মিলিয়ে দু’দলের ৬৮ লড়াইয়ে চিলির জয় মাত্র সাত ম্যাচে। কিন্তু ব্রাজিল জানে চিলির বিপক্ষে এ অতীত ইতিহাস এবার খুব একটা কাজে লাগবে না। ঘরের মাঠেও তাদের কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে।

ব্রাজিলিয়ান চেলসি মিডফিল্ডার উইলিয়ান যেমনটা বলছিলেন, বর্তমান সময়ে ফুটবলের অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। হ্যাঁ, কিছুদিন আগে অবশ্য চিলিকে আমরা হারিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের অবশ্যই সেটি ভাবলে চলবে না। প্রতিটি ম্যাচেই আলাদা গল্প রচিত হয়। আমি নিশ্চিত, চিলি এবার অনেক বেশি উজ্জীবিত এবং আত্মবিশ্বাসী। কারণ গ্রুপ পর্বে ওরা দুর্দান্ত খেলেছে।

ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে ব্রাজিল ফাইনালে খেলবে বলে সেখানে বাদ্যি বাজলেও, গ্রুপ পর্বে ৯ পয়েন্টের মধ্যে ৭ পয়েন্ট আদায় করতে পেরেছে স্বাগতিকরা। অন্যদিকে রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সবাইকে বিস্মিত করে চিলি ২-০ গোলে হারিয়ে বাড়ি ফেরার টিকেট ধরিয়ে দিয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে। হার শুধু ডাচদের কাছে। ফলে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবেই দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছে চিলি।

ব্রাজিল কোচ লুইস ফেলিপ স্কলারি বলেছেন, চিলির চেয়ে ভিন্ন কোনো প্রতিপক্ষ তার পছন্দ ছিল। এমন বলার কারণও রয়েছে। গত বছর এপ্রিলে মিনেইরাতে চিলির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করেছিল তার শিষ্যরা। আর নভেম্বরে কানাডায় প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে চিলিকে হারিয়েছিল ব্রাজিল। তাই প্রতিপক্ষ চিলি হলেও, স্বস্তিতে নেই স্কলারি।

গ্রুপ শেষ ম্যাচে ক্যামেরুনকে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিল। সে ম্যাচেই বিশ্বকাপের প্রথম গোল পেয়েছিলেন ব্রাজিল স্ট্রাইকার ফ্রেড। তার মতে, চিলির মূলত কাউন্টার অ্যাটাক করেই খেলবে। যা শুরু করবে তাদের রক্ষণভাগ। আর তা থেকে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করবেন আলেক্সিস সানচেজ ও আর্তুরো ভিদাল। ৩০ বছর বয়সী এ ব্রাজিলীয় স্ট্রাইকার বলেন, কৌশলের দিক থেকে চিলি বেশ শক্তিশালী। যথেষ্ট প্রত্যয় নিয়েই খেলে তারা। আক্রমণভাগেও পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো খেলোয়াড় রয়েছে তাদের। আমরা তাদের কয়েকটি ম্যাচ দেখেছি। দেখে মনে হয়েছে তারা আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলবে। যেটি ব্রাজিলও করবে। তাই ম্যাচটি হতে পারে উপভোগ্য।

ব্রাজিলের প্রথম একাদশে আজ শুরু থেকেই মধ্যমাঠে পাউলিনহোর জায়গায় খেলবেন ফার্নানদিনহো। সামান্য পিঠের ব্যথা রয়েছে ডিফেন্ডার ডেভিড লুইসের। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি খেলতে না পারলে তার জায়গা নেবেন মাইকন।

১৯৬২ সালে বিশ্বকাপ আয়োজনের পর এখনও পর্যন্ত কোনো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেই পৌঁছতে পারেনি চিলি। ওই আসরের শেষ চারে ব্রাজিলের কাছে হেরেই বিদায় নিয়েছিল তারা। তবে এবার আর্জেন্টাইন কোচ হোর্হে স্যাম্পাওলির অধীনে সানচেজরা বেশ আত্মবিশ্বাসী। ব্রাজিলের বিপক্ষে অঘটন ঘটানোর মতো ক্ষমতা তাদের রয়েছে। দলের সেরা তারকা সানচেজ বলেছেন, ‘আমরা যদি আগেভাগেই হারের চিন্তা করি তাহলে আমাদের ঘরেই বসে থাকা উচিত। ব্রাজিলকে অবশ্যই আমরা সমীহ করি। তারপরও আমি মনে করি আমরা তাদের হারাতে পারি।

You Might Also Like