সাইবার হামলার আরো ঝুঁকি রয়েছে

শুক্রবারে বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভিত্তিক সাইবার হামলাকে ‘অভূতপূর্ব’ বলা হলেও বিশেষজ্ঞদের দাবি, এখনো হামলার ঝুঁকি রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) তৈরি হ্যাকিং টুলস চুরির পর তা ব্যবহার করে হাজার হাজার কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হ্যাক করা হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। এনএসএ তাদের তথ্য চুরি হওয়ার বিষয়টি গোপন রাখায় সাইবার হামলার শিকার হতে হয়েছে বহু প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে।

অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, তথ্য চুরির হওয়ার বিষয়টি চেপে রাখায় স্বাস্থ্য, টেলিকমসহ বিশ্বের হাজারো প্রতিষ্ঠানে হ্যাকিংয়ের পথ খুলে দিয়েছে এনএসএ।

শুক্রবারের হামলায় ইউরোপের অকোমার্কেটে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে, চীনের স্কুলগুলো এবং ইন্দোনেশিয়ার হাসপাতালগুলো মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দেশের মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, ইউক্রেনসহ ইউরোপের দেশগুলো।

পুলিশ সংস্থা ইউরোপোল জানিয়েছে, সাইবার হামলাকারীদের ধরতে ‘যৌথ আন্তর্জাতিক তদন্ত’ করা প্রয়োজন। তাদের সাইবার অপরাধবিরোধী টিম ইসি-৩ আক্রান্ত দেশগুলোর সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করছে। হামলার আশঙ্কা কমে গেলেও তা শেষ হয়ে যায়নি বলে মনে করে এ সংস্থাটি।

নিরাপত্তা সফটওয়্যার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাভাস্তার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ৯৯টি দেশের কম্পিউটারে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৩৪টি র‌্যানসমওয়্যার হামলার তথ্য পেয়েছেন তারা। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এসব দেশের ৭৫ হাজার কম্পিউটার হামলার শিকার হয়েছে।

একটি ম্যালওয়্যার সফটওয়্যারের মাধ্যমে আক্রান্ত কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নেয় ‘শ্যাডো ব্রোকার্স’ নামে হ্যাকার গ্রুপটি। তারা আক্রান্ত কম্পিউটারের স্ক্রিনে বার্তা দেয়, কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে বিটকয়েনের মাধ্যমে ৩০০ ডলার মুক্তিপণ দিতে হবে।

গত এপ্রিলে শ্যাডো ব্রোকার্স হ্যাকিংয়ের অসংখ্য টুল ফাঁস করে, যার অনেকগুলোতে এনএসএর লোগো ছিল। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ফাঁস করা টুলগুলোর মধ্যে ‘এটারনাল ব্লু’ টুলটি ব্যবহার করে এ সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। এটি এনএসএর হ্যাকিং টুল।

You Might Also Like