ইরানের অত্যাধুনিক টর্পেডো পরীক্ষা: চিন্তিত পেন্টাগন

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন পারস্য উপসাগরে ইরানের অত্যাধুনিক টর্পেডো পরীক্ষার কথা জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

পেন্টাগনের কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানের পানি সীমার মধ্যেই ওই পরীক্ষা চালানো হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক কোনও প্রটোকলও তারা লঙ্ঘন করেনি। কিন্তু ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিতে ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার গতির এই টর্পেডো তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে যা কিনা খুবই চিন্তার বিষয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামী ইরান সবসময়ই নানাভাবে শত্রুর হুমকির সম্মুখীন। এ অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি ইরানের জন্য প্রধান সমস্যা ও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তারপরও মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উত্তেজনা ছড়াচ্ছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করছে। সম্প্রতি আমেরিকা ও ব্রিটেনের কর্মকর্তারা ঘন ঘন মধ্যপ্রাচ্য সফরকালে ইরানের বিরুদ্ধে এসব বক্তব্য দিয়েছেন। একের পর এক এইসব হুমকি ও ষড়যন্ত্রের কারণে ইরানও বাধ্য হয়ে তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে উন্নিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরানের এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হচ্ছে শত্রুর যে কোনো আগ্রাসন প্রতিহত করা এবং সমগ্র এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।

সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আইন কানুন মেনে চলে ইরান পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে। আমেরিকার কৌশলগত গবেষণা বিষয়ক একটি প্রতিষ্ঠান কিছু দিন আগে এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ইরানের বিমান ও সমুদ্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এতোটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে, তারা শত্রুর যে কোনো হামলার জবাব দিতে সারাক্ষণ প্রস্তুত রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য এখন ইরানের অনুকূলে।

প্রতিবেদনে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর ইরানের বিশাল বিমান মহড়ার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রে ইরান এমন এক শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে যে, পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী ও ওমান সাগরে আমেরিকার অবাধ চলাফেরা সীমিত হয়ে পড়তে পারে। তবে পারস্য উপসাগরে ইরানের সামরিক উপস্থিতি অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও এ অঞ্চলের কোনো দেশের জন্যই তেহরান কখনই হুমকি সৃষ্টি করেনি। ইরানের প্রতিরক্ষা নীতির উদ্দেশ্য হচ্ছে, সমগ্র এই অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা।

কিন্তু পারস্য উপসাগরে মার্কিন উপস্থিতি এ অঞ্চলের সব দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিজাতীয়দের হুমকি ও ষড়যন্ত্রের ওপর কঠোর নজরদারী করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আট বছর ধরে চলা প্রতিরক্ষা যুদ্ধ ও যুদ্ধ পরবর্তী শত্রুদের ষড়যন্ত্রের অভিজ্ঞতার আলোকে ইরান পারস্য উপসাগর থেকে ওমান এমনকি ভারত মহাসাগর পর্যন্ত দীর্ঘ এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা রক্ষার পদক্ষেপ নিয়েছে।

You Might Also Like