সিসি-আইসিস মডেল, বহুত্ববাদ ও মার্কিন নীতি

আরব বিশ্বের এখনকার দু’টি আলোচিত বিষয় হলো মিসরে আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির দমন ও কর্তৃত্বমূলক শাসন এবং ইরাকে আইসিসের সুন্নি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াই। এ নিয়ে বিশ্বগণমাধ্যমে নানা ধরনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন চলছে। আর রক্ত ঝরছে মধ্যপ্রাচ্যের এক বিরাট এলাকায়। এখানে সমস্যার সমাধান কী যুদ্ধ ও কর্তৃত্বমূলক শাসন ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে হবে, নাকি অন্য কোনো বিকল্প পথে সমাধান আসবেÑ এটি একটি বিরাট প্রশ্ন। একই সাথে প্রশ্ন হবে সমাধানের পথ খুঁজে পেলেও সেই সমাধানের পথে কি আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক কায়েমি শক্তি এগোতে দেবে?

বিশ্বের সামনে আইসিস ও সিসি এ দুই প্রভাবশালী আরব শাসন মডেল হাজির হয়েছে গত মাসে। ওরিট পেরলভ নামের একজন উদারপন্থী ইসরাইলি বিশ্লেষক এ দুই মডেলের নাম দিয়েছেন আইসিস ও সিসি মডেল। এ দুই মডেল নিয়ে আলোচনা করেছেন খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক টমাস এল ফ্রিডম্যান। এ দুই মডেলের কোনোটি কী মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার সমাধান আনতে পারবে, নাকি বিকল্প খুঁজতে হবেÑ এ প্রশ্ন নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন। এ নিয়ে আলোকপাত করেছেন খ্যাতনামা মার্কিন বিশ্লেষক ফরিদ জাকারিয়া এবং জর্ডানের সাবেক পরাষ্ট্রমন্ত্রী মারওয়ান মোয়াশেরও।

সুন্নি মিলিশিয়া আইসিস সিরিয়া ও ইরাকের সুন্নি এলাকায় একটি নতুন ইসলামি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাচ্ছে। এ লক্ষ্যে সিরিয়া ও ইরাকের বিরাট এলাকায় আইসিসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সেখানে বিকল্প প্রশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্য দিকে আবদেল ফাত্তাহ সিসি বিতর্কিত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হয়েই আলজাজিরার তিন সাংবাদিককে সাত থেকে ১০ বছর মেয়াদের জেল দিয়ে এ সপ্তাহে মিসরের নতুন শক্তিদানব হিসেবে অভিযাত্রা শুরু করেছেন। ২০ হাজারের বেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিকে তিনি কারারুদ্ধ করেছেন। অভ্যুত্থান ঘটানোর পর থেকে এ পর্যন্ত সাত হাজারের মতো মিসরীয় প্রাণ হারিয়েছে সিসির জান্তা সমর্থিত সরকারের সেনা অভিযানে। বিচারের নামে প্রহসন করে হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে ফাঁসির দণ্ড দেয়া হচ্ছে।

তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ স্টাডিসের গবেষক পেরলভ সঙ্গত কারণেই নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি অবলোকন করেছেন। তিনি বলেছেন, “আইসিস ও সিসির শাসন আসলে ঠিক একই মুদ্রার দুটো পিঠ। একটিতে রাজনৈতিক জীবনের সব কিছু ‘ঈশ্বরের’ কাছ থেকে পেতে চাওয়া হচ্ছে। আর অন্যটি শক্তির জোরে নিপীড়ক উগ্র জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। উভয়টি কার্যত ব্যর্থ হয়েছে এবং এ ব্যর্থতা চলতে থাকবে। কারণ, তরুণ আরব ও মুসলিমদের জন্য যা প্রয়োজন সেই শিা, স্বাধীনতা আর তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা লাগানোর মতো কাজ এবং রাজনৈতিক জীবনে নাগরিক হিসেবে সমান অংশগ্রহণ করার সুযোগ এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারবে না। পেরলভ বলেছেন, আমরা যে নতুন প্রজন্মের জন্য অপো করতে যাচ্ছি, তাদের স্থান সমাজের কেন্দ্রবিন্দুতে। এ নতুন প্রজন্মের মূল কথা এই নয় যে কিভাবে তারা ঈশ্বরের বা রাষ্ট্রের সেবা করবে বরং তাদের মূল বিষয় হলো কিভাবে ইশ্বর ও রাষ্ট্র তাদের কাজে লাগবে।”

অলোচ্য দুই শাসন মডেলের একটিতে সুন্নি মুসলিম মিলিশিয়ারা প্রতিপক্ষ শিয়া মুসলিম আধিপত্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, আর অন্যটিতে সেক্যুলার উগ্র জাতীয়তাবাদী রূপ নিয়ে সিসি মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। এ দুই শাসন মডেলের বাইরে সমাজ, ধর্ম ও চিন্তার মধ্যে বহুত্ববাদের ওপর নির্মিত একটি তৃতীয় বিকল্পের প্রয়োজনের কথা এখন উচ্চারিত হচ্ছে বিশেষভাবে। বলা হচ্ছে, আরব বিশ্বের জন্য সিসির সামরিক রাষ্ট্র বা আইসিসের উগ্র ইসলামি রাষ্ট্র এ দুই অকার্যকর মডেলের বাইরে শেষ পর্যন্ত সমৃদ্ধি, স্থিতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করার মতো একটি বিকল্প আনতেই হবে। সাধারণ মানুষ যখন উপলব্ধি করবে এ দুটোর কোনোটাই তাদের কাজে আসবে না তখন তারা একুশ শতকের নতুন ব্যবস্থার দিকে যেতে থাকবে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক টমাস এল ফ্রিডম্যানের মতে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণই অন্ধকার এমন নয়। এখন যে দুটো উত্থানশীল মডেল সামনে এসেছে তার কোনোটাই মুসলিম মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বহুত্ববাদের সাথে মানানসই সমাজব্যবস্থা নির্মাণে পূর্ণাঙ্গ বা সফল কোনো ব্যবস্থা নয়। এ ক্ষেত্রে তিউনিসিয়া ও কুর্দিস্তান কিছুটা এগিয়ে যাচ্ছে; কিন্তু সবচেয়ে বড় বিষয়টি হলো, সমাজের ভেতর থেকে এটি আসতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে জর্ডান ও মরক্কোর মতো অপোকৃত নমনীয় রাজতন্ত্রও আছে, যেখানে বিরোধী পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করে বহু মতকে ধারণ করার প্রচেষ্টা সক্রিয় রয়েছে।

জর্ডানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ‘ঞযব ঝবপড়হফ অৎধন অধিশবহরহম ধহফ ঃযব ইধঃঃষব ভড়ৎ চষঁৎধষরংস.’ বইয়ের লেখক মারওয়ান মোয়াশের মনে করেন, সিসির সেক্যুলার কর্তৃত্ববাদী মডেল এবং আইসিসের উগ্র ধর্মীয় মডেল দুটোই ব্যর্থ হয়েছে। কারণ তারা অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন বিবেচনায় জনগণের জীবনমান উন্নত করার প্রয়োজন পূরণ করতে পারেনি। উভয় মডেলই ধারণমূলক না হয়ে তাতে সমাজের বিপুল অংশকে বাইরে রেখে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে। এটি ভবিষ্যতের জন্য হবে বিস্ফোরণোন্মুখ। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ অঞ্চলে জনসংখ্যার ৭০ শতাংশের বয়স এখন ৩০ বছর বা তার চেয়ে কম। তারা যা চাইছে তার সাথে এ দুই মডেল কোনোভাবেই মিলবে না।

মধ্যপ্রাচ্যের সমাজে সাধারণভাবে তিনটি ছোট-বড় ধারা রয়েছে। এর একটি হলো সেক্যুলার উদারনৈতিক ধারা, আরেকটি হলো উগ্রপন্থী ধর্মীয় ধারা, তৃতীয়টি হলো মধ্যপন্থী ইসলামি ধারা। মিসর বা তিউনিসিয়ার একনায়কতন্ত্রবিরোধী বিপ্লবে এ তিন ধারার অংশগ্রহণ ছিল। মিসরে গণতান্ত্রিক রূপান্তরকালে এ তিন ধারাকে অন্তর্ভুক্ত করে শাসন চালানো নানা কারণে সম্ভব হয়নি। প্রথমত, এ ব্যাপারে তিউনিসিয়ায় আন নাহদা যতটা উদারভাবে ছাড় দিয়ে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছে, ততটা পারেনি মিসরের ব্রাদারহুড। এ ক্ষেত্রে এ তিন শক্তিকে বিভক্ত রেখে গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে ব্যর্থ করার একটি প্রচেষ্টা আঞ্চলিক দুই প্রভাবশালী শক্তি এবং সামরিক কায়েমি শক্তির সক্রিয় ছিল। যে ধরনের দূরদর্শী পদক্ষেপ এটিকে অতিক্রম করতে পারত, সেটি মুরসির শাসনামলে দেখা যায়নি।

মিসরে মুরসির গণতান্ত্রিক শাসনের পতন ঘটানোর পর সিসির নেতৃত্বে জান্তা শাসকেরা উদারপন্থী সেক্যুলারিস্ট এবং উগ্র ধ্যানধারণার ইসলামিস্টদের একটি অংশকে ব্যবহার করে নিজেদের ক্ষমতা পোক্ত করেছে। এখন তারা মোবারক আমলের চেয়েও কঠিন কর্তৃত্বমূলক শাসন ফিরিয়ে আনতে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে। সমাজের বৃহৎ একটি অংশকে বাইরে রেখে শুধু হত্যা-নিপীড়নের মাধ্যমে এ ধরনের শাসন টিকিয়ে রাখা যাবে না। এতে রক্তপাত এবং চরমপন্থার বিস্তৃতি ঘটবে। আলজেরিয়ার অনুকরণে ইসলামিস্ট দমন করার যে স্বপ্ন সিসি দেখছেন, সেটি আসলে সম্ভব হবে না।

অন্য দিকে সিরিয়া ও ইরাকের সুন্নি অঞ্চলে আইসিসের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার যে অভিযান এখন চলমান রয়েছে, তার মাধ্যমে একটি সুন্নি ইসলামি খেলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হচ্ছে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। আসলে সৌদি আরবসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তায় আইসিস তার অগ্রাভিযান চালাতে পারলেও তাদের দখল বজায় রাখা সম্ভব হবে না। তারা বিজিত এলাকায় যে শাসন কায়েমের চেষ্টা করছে তা ধারণমূলক না হয়ে এর বিপরীত রূপই নিয়েছে। এটি চিহ্নিত হয়েছে শিয়া কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে সুন্নি মিলিশিয়া অভিযান হিসেবে। এর বিরুদ্ধে শিয়া শক্তি সংগঠিত হয়ে পাল্টা অভিযান চালানোর পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর সাথে অনিবার্যভাবে যুক্ত হবে ইরানি রাষ্ট্রীয় শক্তি। ফলে আবারো বড় আকারের রক্তপাত এবং দীর্ঘস্থায়ী বিভক্তির পথে অগ্রসর হবে এ অঞ্চল। একটি সমঝোতা বা অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা এবং শিয়া-সুন্নি সঙ্ঘাতের একটি নিষ্পত্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়া কোনোভাবেই এ পরিস্থিতির সমাধান করা যাবে না।

মধ্যপ্রাচ্যের এ পরিস্থিতিতে পরাশক্তি আমেরিকান নীতির দুর্বোধ্যতা সঙ্কটকে আরো গভীর করছে। ব্লুমবার্গ ভিউর সিনিয়র সম্পাদক ডেভিড শিপলি সম্পাদকীয় মন্তব্যে ওবামা প্রশাসনের এই নীতি-দৈন্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির সাথে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির গত সপ্তাহের সভা ছিল অতিশয় দুঃখজনক। এটি মিসরের ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়ে আছে, তার আরো অবনতি ঘটিয়েছে। কায়রোতে জন কেরি আল সিসিকে আশ্বস্ত করেছেন, গত বছর নিরস্ত্র প্রতিবাদকারীদের হত্যাসহ নৃশংস মানবাধিকার রেকর্ডের জন্য বন্ধ করা মার্কিন সামরিক সহায়তা খুব তাড়াতাড়ি অবমুক্ত করা হবে। এর ২৪ ঘণ্টা পরে একটি মিসরীয় আদালত আলজাজিরার তিন সাংবাদিককে সাত থেকে ১০ বছর মেয়াদে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। জন কেরি স্থগিত সহায়তা অবমুক্ত করার মাধ্যমে আল সিসিকে মার্কিন সমর্থনের খোলা চেকই হস্তান্তর করলেন। কেরি বলেছেন, সিসি সুনির্দিষ্ট কিছু অঙ্গীকার করেছেন যে, তিনি মানবাধিকার ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন করবেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার পুনর্মূল্যায়ন করবেন। একই সাথে অন্যান্য বিষয়ও তার মাথায় রয়েছে। তিনি মাত্র ১০ দিন আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যতটা সম্ভব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন এবং পরবর্তী দিন, সপ্তাহ বা মাসগুলোতে তিনি কী করতে যাচ্ছেন তা অবহিত রাখবেন।’

ব্লুমবার্গ ভিউর সম্পাদকীয়তেই বলা হয়েছে, ‘এক বছর আগে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মতা দখলের পর থেকেই মূলত আল সিসি মিসর চালাচ্ছেন। তিনি নীতির পরিবর্তন করছেন এমন কিছুই দেখা যাচ্ছে না। তিনি একটি জিনিসই শুধু পরিবর্তন করেছেন, সেটি হলো এখন উর্দির পরিবর্তে তিনি স্যুট পরছেন। গত জুলাই থেকে আল সিসি তার নৃশংস পদ্ধতি বদলানোর ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কিছুই করেনি। অন্য দিকে মুসলিম ব্রাদারহুড ও উদার বিরোধী রাজনীতির সমর্থক মিলিয়ে ২০ হাজারের বেশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে জেলে ভরা হয়েছে। অভ্যুত্থানবিরোধী মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থকদের প্রতিটি বিচার আগেরবারের চেয়ে জঘন্য হচ্ছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।’

ডেভিড শিপলি লিখেছেন, ‘মিসরে বর্তমান পরিস্থিতি যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্যই হবে পরীার। তবুও একটা কিছু দৃঢ়তা বা ধারাবাহিকতা খুব বেশি কিছু চাওয়ার মতো নয়। এখানে অন্তত দু’টি বিকল্প রয়েছে। বারাক ওবামা প্রশাসন এটি স্বীকার করতে পারে যে ইসলামপন্থী মুসলিম ব্রাদারহুড মতায় আসার পরে গণতন্ত্রের একটি সংপ্তি পরীার পর আবার একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা মার্কিন নিরাপত্তা স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর যদি আমেরিকা শান্তিচুক্তির স্বার্থে সাহায্য অবমুক্ত করতে চায় তাহলে সেটিও কেরির স্পষ্ট করে বলা উচিত। অথবা মার্কিন প্রশাসনের বলা উচিত যে মধ্যপ্রাচ্যে প্রধান মার্কিন স্বার্থ হলো পাশ্চাত্যবিরোধী ইসলামি সংগঠনগুলোর উত্থান ও বিস্তার ঠেকানো। আসলেই আল সিসি এতে সাহায্য করছেন না। তার দমনমূলক কৌশল শুধু মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধেই যাচ্ছে না, বরং তা আরো বিপজ্জনক ইসলামি সন্ত্রাসী গ্রুপের বিকাশের কারণ হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, আল সিসি এমন একটি দমনমূলক কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র তৈরি করতে চাইছে যেটি হবে ২০১১ সালে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভে পতনের আগ পর্যন্ত মার্কিন সমর্থন পাওয়া হোসনি মোবারকের শাসনের চেয়েও বেশি দমনমূলক। আমেরিকা গণতন্ত্রের জন্য বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়েছিল, এখন আবার নির্মমভাবে যে ঘড়ির কাঁটাকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিতে চাইছে, তাকেও সমর্থন করছে।’
ডেভিড শিপলি মন্তব্য করেন, আজ কোনো জনমত জরিপে আমেরিকানরা যদি বলে যে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি ঠিক কী সে সম্পর্কে তারা দিশা পাচ্ছেন না তাহলে বিস্মিত হওয়ার কিছুই থাকবে না। নিঃসন্দেহে মিসরীয়দের একই প্রশ্ন করা হলে তাদের জবাবও হবে তাই।

মধ্যপ্রাচ্যের মিসর, সিরিয়া বা ইরাকে এখন যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা একটি প্রজ্বলমান অনল উদগিরণের মতো।
বিশ্ব বা আঞ্চলিক শক্তিগুলো দায়িত্ববান না হয়ে সেই আগুনে প্রতিহিংসার ঘি ঢাললে সে সর্বনাশা আগুন থেকে কেউই রেহাই পাবে না। বিভিন্ন দেশের বাস্তবতাকে সামনে রেখে সব পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করে ব্যবস্থা নেয়াই হবে এর বাস্তবসম্মত বিকল্প। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরব বা উপসাগরীয় দেশগুলোতে রাজতন্ত্র উৎখাতের চেষ্টা, ইরানে শাসন পরিবর্তন প্রচেষ্টা অথবা মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিশ্চিহ্ন করার হুঙ্কার কোনোটাই মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এ মুহূর্তে কল্যাণ ডেকে আনবে না। সিসি বা আইসিস মডেলের গ্রহণযোগ্য বিকল্প বের করতেই হবে।

You Might Also Like