ফ্রান্সের এবারের নির্বাচন কেন ব্যতিক্রম?

স্থানীয় সময় রোববার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত দফার ভোট গ্রহণ হবে। এর মধ্য দিয়ে ফ্রান্স পাবে তাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট।

রোববার যে নির্বাচন হচ্ছে, এর সবচেয়ে বড় দিক হলো প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী মূলধারার কোনো দলের নন, বরং নবজাগর ঘটিয়ে তারা আত্মপ্রকাশ করেছেন। আধুনিক ফ্রান্সের ইতিহাসে এটিই এ ধরনের প্রথম ঘটনা। মূলধারার ডানপন্থি ও বামপন্থিরা এত দিন ফ্রান্স শাসন করেছে। এবার তার ব্যক্তিক্রম হচ্ছে।

ব্রিটেনের ইস্ট অ্যাঙলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির শিক্ষক পিয়েরে বককিউলোন বলেছেন, ‘প্রথম দফার নির্বাচনে ডানপন্থি দি রিপাবলিকানস পার্টি এবং মধ্য বামপন্থি সোশ্যালিস্ট পার্টি মোট গৃহীত ভোটের মাত্র ২৬ শতাংশ পেয়েছে। ফিফথ রিপাবলিকের ইতিহাসে এই দুই দলের সর্বনিম্ন ভোট পাওয়ার ঘটনা এটি।’

ফলাফল থেকে প্রমাণিত হয়েছে, তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি এবং ক্ষমতায় গিয়ে একই ধরনের নীতি গ্রহণ করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে হারের চেয়েও বড় কথা হলো সোশ্যালিস্ট পার্টি ও রিপাবলিকানসের ঐতিহাসিক পরাজয় এটি।

প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকা প্রার্থী এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তুলনামূলক একজন নবীন রাজনীতিক। বয়সও কম, মাত্র ৩৯ বছর। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কিন্তু গত বছর পদত্যাগ করে নির্বাচনী প্রচারে নেমে পড়েন। এখন প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

ম্যাক্রোঁর প্রতিদ্বন্দ্বী লি পেনকেও রাজনীতিতে বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব বলা যায় না। ৪৬ বছর বয়সি এই নারী ১৯৮২ সালে তার বাবার প্রতিষ্ঠিত রক্ষণশীল ও কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল ফ্রন্টের (এফএন) ব্যানারে নির্বাচনে নামেন। কিন্তু এই দলের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ ও জাতিগত দৃষ্টিভঙ্গি লালনের অভিযোগ থাকায় প্রথম দফার ভোটের পর দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন লি পেন। উদারপন্থি ও স্বতন্ত্র ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এ পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফ্রান্স। কিন্তু এবারের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে, ফ্রান্স ইইউ-তে থাকবে কি থাকবে না।

ম্যাক্রোঁ ইইউ-এর সমর্থক কিন্তু লি পেন তার ঘোরতর বিরোধী। ইইউ-এর বিরুদে সব ধরনের সুযোগ কাজে লাগানোর অঙ্গীকার করেছেন তিনি। তার নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে, জয়ী হলে ব্রেক্সিটের মতো ফ্রেক্সিট বিষয়ে গণভোট দেবেন।

মোটা দাগে ফ্রান্সের এবারের নির্বাচনে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে বেকারত্ব, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কর্মজীবীদের অধিকার, বিশ্বায়ন, অভিবাসন, শরণার্থী ও সেক্যুলারিজম।

এসব ঘটনার মধ্যে নির্বাচনের দেড় দিন বাকি থাকতে ম্যাক্রোঁর নির্বাচনী টিমের ই-মেইল ফাঁস হয়েছে। উইকিলিকস বলেছে, ফাঁসের ঘটনা সত্য। কিন্তু এর দায় নেয়নি তারা। ম্যাক্রোঁর টিমের দাবি, ‘গণতান্ত্রিক অস্থিশীলতা’ সৃষ্টির জন্য এ কাজ করা হয়েছে।

গত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে ই-মেইল ইস্যুতে হিলারির বিরুদ্ধে নতুন করে এফবিআই তদন্তের ঘোষণা দেওয়ায় নির্বাচনের প্রত্যাশিত ফলাফল উল্টে যায় বলে খোদ হিলারি ক্লিনটনই দাবি করেন। এবার ম্যাক্রোঁর বেলায়ও কি তাই ঘটতে যাচ্ছে?

You Might Also Like