নির্ভয়া হত্যা : চারজনের ফাঁসি বহাল

নির্ভয়াকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় চার আসামির ফাঁসির সাজা বহাল রেখেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার আসামিদের আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর সিনেমা দেখে সঙ্গীর সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন ফিজিওথেরাপির ছাত্রী জ্যোতি সিংহ। দক্ষিণ দিল্লিতে একটি বাসে ওঠেন তারা। সেই বাসে ছিল আরো ছয়জন। বাসচালক রাম সিংহ আশ্বাস দেয়, নির্দিষ্ট জায়গায় তাদের নামিয়ে দেওয়া হবে। বাস চলতে শুরু করলে জ্যোতির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে অন্যরা। সঙ্গীর সামনেই জ্যোতিকে ধর্ষণ করে তারা। এতেও থেমে থাকেনি তারা। জ্যোতির শরীরে লোহার রড ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। টেনে বের করে আনা হয় তার নাড়িভুঁড়ি।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সিঙ্গাপুর। ১৩ দিন পর সেখানেই মারা যান তিনি। এই ঘটনার পর ভারতজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে জ্যোতির নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়। ‘নির্ভয়া’ বা ‘দামিনী’ নাম উল্লেখ করা হয় সংবাদমাধ্যমে। পরে প্রকাশ্যে আসেন তার মা-বাবা। মেয়ের নাম-পরিচয় জানান তারা।

ঘটনায় অভিযুক্ত ছয়জনের মধ্যে এক নাবালকও ছিল। ওই নাবালকসহ অভিযুক্ত অক্ষয় ঠাকুর, বিনয় শর্মা, পবন গুপ্ত, রাম সিংহ ও মুকেশকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০১৩ সালে নিম্ন আদালতে বিচার শুরু হয় তাদের। তবে ঘটনার সময় এক অভিযুক্তের বয়স ১৮ বছর থেকে মাসখানেকের কম হওয়ায় তাকে জুভেনাইল কোর্টে তোলা হয়। নিম্ন আদালতে মামলা চলাকালে ২০১৩ সালের মার্চে তিহাড় জেলে আত্মহত্যা করে রাম সিংহ। অক্ষয় ঠাকুর, বিনয় শর্মা, পবন গুপ্ত ও মুকেশকে ফাঁসির সাজা শোনায় নিম্ন আদালত। একই রায় বহাল রাখে হাইকোর্টও। জুভেনাইল কোর্টে তিন বছরের সাজা মেলে ওই নাবালকের।

ফাঁসির সাজার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে অক্ষয় ঠাকুর, বিনয় শর্মা, পবন গুপ্ত ও মুকেশ। শুক্রবার সেই আর্জি খারিজ করে ফাঁসির সাজা বহাল রাখল শীর্ষ আদালত।

You Might Also Like