নয়া দিল্লিতে মোদী-এরদোগানের বৈঠক আজ

দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতের নয়া দিল্লিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে বসছেন তিনি।

এরদোগানের ঐতিহাসিক এই সফরকে ঘিরে দিল্লি জুড়ে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় তিনি ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লি পৌঁছলে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মূখার্জি। এসময় ভারতের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দুদেশের কুটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রুচি ঘনশ্যাম জানান, এরদোগান সোমবার পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে তিনি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখ্যার্জীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে দেখা করবেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে তার সহধর্মিনী ইমিনি এরদোগান, মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য, জ্যেষ্ঠ কমকর্তা ও তুরস্ক ব্যবসায়ী ফোরামের একটি প্রতিনিধি দল রয়েছে বলে জানা গেছে।

এরআগে, এরদোগান ২০০৪ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ভারত সফর করেছিলেন।

গেল ১৬ এপ্রিল তুরস্কের গণভোটে বিজয়ী হওয়ার পর এটাই প্রথম বিদেশ সফর এরদোগানের।

জানা যায়, এরদোগানের দিল্লি সফরকালে গোটা দুইদিনই তার এয়ারক্রাফট পাহারায় থাকবে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ অনুমতি নিয়ে এরদোগানের নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষা কর্মীরাও অস্ত্র বহন করতে পারবেন।

ধারণা করা হচ্ছে, জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএসএর ) হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থা নেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে পরিচিত তুরস্ক। ফলে পাকিস্তানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি ভারতে সফরের আগেই তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছেন, দীর্ঘ ৭০ বছরের মতো সময় ধরে কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্য সংঘাত চলছে। নিজেদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য হলেও এই বিষয়ে সমাধানে আসা প্রয়োজন। তিনি পাকিস্তানের নওয়াজ শরীফকে একজন মহৎ মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ভারতের উচিত জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপ করা।

এরদোগান বলেন, এ সফরের সুবাদে ভারত ও তুরস্কের মধ্যে সম্পকোর্ন্নয়নের পাশাপাশি বাণিজ্য ও অন্যান্য নানা দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে ফলপ্রসূ পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব হবে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, কাশ্মীরের উন্নয়নে ও ভবিষ্যতের জন্য এ অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা প্রয়োজন। এর জন্য দুই দেশকেই উন্মুক্ত আলোচনায় বসা উচিত।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা দক্ষিণ এশিয়াতে শান্তি দেখতে চাই। বিশ্বশান্তি বজায় রাখার জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা জরুরি। এখন পর্যন্ত কাশ্মীর নিয়ে সংঘাতে ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আর ভারত তার নিজ অংশের শান্তি বজায় রাখার জন্য পাঁচ লাখেরও বেশি সৈন্য মোতায়েন করে রেখেছে।

ডিএনএ ইন্ডিয়া ও আনাদোলু নিউজ এজেন্সি অবলম্বনে

You Might Also Like