বিজেপির নারী বিধায়কের বিরুদ্ধে দেহ ব্যবসার অভিযোগ করায় অসমের ডিএসপি বরখাস্ত

ভারতের অসমে বিজেপি’র এক নারী বিধায়কের উদ্দেশে দেহ ব্যবসার অভিযোগ করায় অসমের কার্বি আংলং জেলার ডেপুটি পুলিশ সুপার (ডিএসপি) অঞ্জন বরাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সিআইডি অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তাকে শনিবার গ্রেফতার করলেও ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত মুচলেকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

সিআইডি অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৬৬/১৬৭/৫০৬/৭১৭ ধারাসহ তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৬/৬৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিআইডি তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে তার মুঠোফোন এবং ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করেছে।

গত ২৫ এপ্রিল অঞ্জন বরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘অসম সচিবালয় জনতা ভবনে নিজের কক্ষে নির্লজ্জ দেহব্যবসা চালাচ্ছেন বিজেপির এক বিধায়ক। তিনি তিন ঘণ্টার জন্য এক লাখ টাকা নিচ্ছেন। রমরমিয়ে ওই ব্যবসা চলছে। কিন্তু ওই বিধায়কের পদবী ‘চক্রবর্তী’ নয়।’

বিজেপির দুই নারী বিধায়কের মধ্যে একজন এমপি বিজয়া চক্রবর্তীর মেয়ে সুমন হরিপ্রিয়া, অন্যজন অভিনেত্রী আঙুরলতা। এতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, তিনি বিজেপি’র নারী বিধায়ক আঙুরলতার দিকে অভিযোগের তীর ছুঁড়েছেন।

বিজেপি শাসিত অসমে ক্ষমতাসীন বিজেপি’র এক নির্বাচিত নারী জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অশ্লীল মন্তব্য করায় ওই ঘটনায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

শনিবার নিজ বাসা থেকে ওই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি দফতরে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি চিৎকার করে দিসপুর থেকে দেহ ব্যবসার ঘাঁটি উৎখাত করার ডাক দেন। তার হাতে দেহ ব্যবসার পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ আছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। তিনি তার অভিযোগ প্রমাণ করবেন বলেও মন্তব্য করেছেন।

অঞ্জন বরা নামে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগে মসজিদে আজান বন্ধ করা থেকে শুরু করে মুসলিমমুক্ত ভারতের জন্য সকলকে আহ্বান জানানোর অভিযোগ ওঠে।

তিনি কংগ্রেস কর্মী রফিকুল ইসলামের মতো অনেক মুসলিমকে হত্যা করেছেন বলেও অকপটে স্বীকার করেন।

ফেসবুকে একাধিকবার ‘জয় শ্রীরাম’, ‘জয় জয় শ্রীরাম’, ‘জয় শ্রীরাম, জয় হিন্দুস্তান’, ‘জয় জয় শ্রীরাম, জয় হিন্দুভূমি’ ইত্যাদি লেখা পোস্ট করেছেন। মুসলিম মুক্ত ভারতের জন্য সকলকে হাত মেলানোরও আহ্বান জানান ওই কর্মকর্তা। সেসময় সাময়িকভাবে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।#

পার্সটুডে

You Might Also Like