চীনের ‘মাথা ব্যথা’ তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কোন্নয়ন

উত্তর কোরিয়া ইস্যু নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যখন কূটনৈতিক বোঝাপড়ার ঘাটতি প্রকট হচ্ছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে চীনের আরেক ‘মাথা ব্যথার কারণ’ তাইওয়ান।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আবারও সরাসরি ফোনে কথা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ইং-ওয়েন বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সঙ্গে আরো খোলামেলা যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে আমাদের কাছে।’ তবে বড় দেশ হিসেবে বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সাই ইং-ওয়েন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই ফোন করতে পারেন- এমন সম্ভাবনাও বাদ দিচ্ছি না। তবে তা আঞ্চলিক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিবেচনা ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।’

গত ডিসেম্বর মাসে সে সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট ইং-ওয়েনের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাতে ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন তিনি। তবে বিগত প্রায় চার দশকে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত বা ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্ট তাইওয়ানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেননি। যেখানে প্রথা ভেঙে ট্রাম্পই কথা বলেন। তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘এক চীন’ নীতি নিয়ে সংশয়ে ছিলেন এবং তাইওয়ানের বিষয়ে ইতিবাচক কথা বলেন। এ নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

তবে প্রায় দুই মাস পরে ফেব্রুয়ারিতে ‘এক চীন’ নীতির প্রতি সম্মান দেখাতে সম্মত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চলতি মাসের প্রথম দিকে ট্রাম্প তার ফ্লোরিডার বিশালবহুল অবকাশকেন্দ্রে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে দ্বিপাক্ষীক বৈঠক করেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলার এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের সম্পর্ক নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে খোলামেলা কথা বললেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট ইং-ওয়েন। তার দাবি, আগের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরো হয়েছে।

তাইওয়ানের সবচেয়ে ঘনিষ্ট মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ইং-ওয়েন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সর্বাধুনিক স্টিলথ জেট (যুদ্ধবিমান) বিমান কেনার দরকার পড়তে পারে তাদের।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরক্ষা কৌশলের জন্য অর্থবহ হবে, এমন কোনো আইটেম কেনার বিষয়ে সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না আমরা এবং এফ-৩৫ হলো এমন একটি আইটেম।’

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে তাইওয়ানের কোনো শীর্ষ নেতা হিসেবে এই প্রথম অকপটে কথা বললেন ইং-ওয়েন।

সাক্ষাৎকারে ইং-ওয়েন বলেন, ওয়াশিংটনকে অস্ত্র কেনার একটি তালিকা দেওয়া হবে। তবে এ ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাইওয়ানের কর্মকর্তারা এখনো আলোচনা করেননি।

এদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার বলেছে, তাইওয়ানের কাছে যেকোনো দেশের অস্ত্র বিক্রির ঘোর বিরোধিতা করে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তাইওয়ানের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে নিয়মিত মাসিক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়াং ইউজুম এ কথা বলেন।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রায় এক বছর পূর্ণ করতে চলেছেন সাই ইং-ওয়েন। নিজ কার্যালয়ে বসে রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। চীনের প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের প্রতি বড় দেশের নেতার মতো আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইং-ওয়েন বলেন, ‘চীনের এখন নিজের দায়িত্বজ্ঞান বোঝার সময়।’

চীন সরকার তাইওয়ানকে তাদের ‘এক চীন’-এর অংশ হিসেবে মনে করে। কিন্তু ১৯৪৯ সাল থেকে তাইওয়ান একটি স্বশাসিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। তবে রাষ্ট্র হিসেবে তারা জাতিসংঘের স্বীকৃতি পায়নি আজও। এ ছাড়া তাইওয়ানের সঙ্গে কোনো দেশের সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকারও ভিত্তিও বৈধ নয়। তবে চীন কখনো তাইওয়ানের সরকারের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালায়নি।

You Might Also Like