উত্তর কোরিয়ার বিশাল সামরিক মহড়া

সেনবাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর কোরিয়া বিশাল সামরিক মহাড় চালিয়েছে।

এমন সময় এ সামরিক মহড়া চালালো দেশটি, যখন দক্ষিণ কোরিয়ার জলসীমায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডুবোজাহাজ (সাবমেরিন)।

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র তৈরি ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিবদমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়া এককভাবে যেকোনো সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলা ও পাল্টা হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে কোরীয় জলসীমার দিকে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী। তা ছাড়া উত্তর কোরিয়া ইস্যু নিয়ে টোকিওতে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের প্রতিনিধিরা।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, উত্তর কোরিয়া যেকোনো সময় আবারও দূরপাল্লার পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে পারে। ধারণা করা হচ্ছিল, মঙ্গলবার তাদের সামরিক বাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাতে পারে।

কিন্তু নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বদলে উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূলের ওনসান অঞ্চলে ব্যাপকসংখ্যক অস্ত্রধারী সেনা মোতায়েন করে মহড়া চালিয়েছে বলে দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।

ওনসানে উত্তর কোরিয়ার একটি বিমানঘাঁটি রয়েছে এবং সেখান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাও চালাচ্ছে তারা।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার সামরিক মহড়া চালনোর বিষয়ে গণমাধ্যমে জানিয়েছে। তারা বলেছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে তারা এবং সার্বক্ষণিক প্রস্তুতিতে রয়েছে তাদের সামরিক বাহিনী।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাদের সামরিক বাহিনীর ৮৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ধারাভাষ্যে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফন্দিবাজীর দিন শেষ করতে এবং পরমাণবিক শক্তির নামে ব্লাকমেইলের অবসান ঘটাতে প্রস্তুত তাদের সেনাবাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোরীয় জলসীমায় ইউএসএস কার্ল ভিনসন এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠিয়েছেন। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নেবে। নৌবহর পাঠানোর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকে হুঁশিয়ার করছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের নিরাপদ রাখার আশ্বাস দিচ্ছে।

এদিকে, উত্তর কোরিয়াবিষয়ক সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য সিনেটের সব সদস্যকে হোয়াইট হাউসে ডেকে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এখন শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা-ই দেখার বিষয়।

You Might Also Like