মাহির মামলায় অব্যাহতি পেলেন শাওন

চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির করা মামলায় শাহরিয়ার ইসলাম শাওনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাইফুল ইসলাম পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে শাওনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

এর আগে শাওন তার আইনজীবী বেলাল হোসেনের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, শাওন নির্দোষ ও ষড়যন্ত্রের শিকার। তাকে হয়রানি করার জন্যই মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেছে। নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়েছে। জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে নাই।

তিনি বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাওনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অব্যাহতির আবেদন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। শাওন আপনার আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছে। জামিন দিলে সে পলাতক হবে না। একই সাথে তিনি শাওনের অব্যাহতির বিষয়েও শুনানি করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম শামীম এর বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শাওনকে জামিন দেন। আর তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে শাওনকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

গত ৩১ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলামের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোহরাব মিয়া শাওনকে অব্যাহতির আবেদন করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। মাহির সঙ্গে স্বামী দাবিদার শাওনের বিয়ে হয়েছিল বলে পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়। অভিযোগটি তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হওয়ায় শাওনকে মামলার দায় হতে অব্যাহতির আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০১৫ সালের ১৫ মে কাজী মো. সালাউদ্দিন ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে শাওন ও মাহির বিয়ে সম্পন্ন হয়। ভলিউম নং ১৮৬/১৫, পৃষ্ঠা ৬৫-তে এ বিয়ের রেজিস্ট্রার হয় এবং তদন্ত কর্মকর্তা এ বিয়ের রেজিস্টার জব্দ করে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এসআই সোহরাব বলেন, ‘শাওন ও মাহির বিয়ে হয়েছে। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র আমি নিজেই জব্দ করেছি।’ তাদের বিয়ের মাসখানেকের মধ্যে চলচ্চিত্রে কাজ করা নিয়ে বিবাদীর সাথে বিবাদে জড়ালে তারা আলাদাভাবে বসবাস শুরুসহ খোলা তালাক কার্যকর করা হয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে মাহি গত বছরের ২৫ মে আবার বিয়ে করেন বলেন জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৮ মে উত্তরা পশ্চিম থানায় নায়িকা মাহি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করেন।

জানা যায়, মাহির স্বামী দাবিদার শাওনকে গত বছরের ৫ জুন বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল জামিন দেন।

এর আগে ২০১৬ সালের ২৮ মে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় স্বামী দাবিদার শাওনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেন নায়িকা মাহি। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই শাওনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ শাওনের দক্ষিণ বাড্ডার বাসা থেকে কম্পিউটার জব্দ করে।

নায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে ব্যবসায়ী পারভেজ মাহমুদ অপুর বিয়ের পরের দিন থেকেই কয়েকটি গণমাধ্যমে মাহির ‘একাধিক বিয়ে-সংক্রান্ত’ কিছু ছবি প্রকাশ হতে থাকে। সেখানে ছবি প্রকাশের পাশাপাশি দাবি করা হয়, এর আগেও একাধিকবার মাহির বিয়ে হয়েছে।

ছবি প্রকাশের পর থেকে আলোচনার ঝড় ওঠে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে।

এদিকে শাওন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি দাবি করেন, নায়িকা মাহি তার ভালো বন্ধু ছিলেন। ফেসবুকে মাহির সঙ্গে অনেক ছবিও পোস্ট করেন শাওন।

You Might Also Like