জাতীয় রাজনীতিতে আসতে চায় হেফাজত!

জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে ইসলামপন্থী দলগুলোর বিশেষ করে হেফাজতে ইসলামের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে এরাই বড় ফ্যাক্টর হয়ে দেখা দিতে পারে এমন বদ্ধমূল ধারণা দিনে দিনে আরো স্পষ্ট হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের মধ্যে।

দলটি অল্প সময়ের মধ্যে সরকার ও বিরোধী শিবিরে নিজেদের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করে এবার ভোটের রাজনীতিতে অগ্রসর হচ্ছে।

গণভবনে হেফাজতে ইসলামের নেতা আল্লামা শফীসহ কওমী মাদ্রাসার আলেম-ওলামাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকই এখন দেশের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্র-বিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বৈঠকটি সরকার ও বিরোধী শিবিরকে ব্যাপকভাবে নাড়া দিয়েছে। হঠাৎ এ ধরনের বৈঠক সর্বমহলকে নাড়া দিয়েছে। এ নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। পাশাপাশি দুই শিবিরেও সৃষ্টি হয়েছে চরম অস্বস্তি। খোদ সরকারি শিবিরে এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। বিশেষ করে এতদিন যারা হেফাজত তথা ইসলামপন্থীদের কঠোর সমালোচনায় সরব ছিলেন তাদেরকে দারুণভাবে আঘাত করেছে।

দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোড়ন তুলেছে বৈঠকটি।

হেফাজতে ইসলামের আমির অল্লামা শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান।

সাক্ষাৎকালে আহমদ শফীর কাছে ফিলিস্তিনের প্রধান বিচারপতি মাহমুদ সিদ্দিকীর একটি চিঠি হস্তান্তর করেছেন ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান। এছাড়া ফিলিস্তিনে উৎপাদিত কয়েক পদের বিখ্যাত খেজুর, আতর এবং দেশটির ঐতিহাসিক স্থান ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর সাজানো একটি তথ্যচিত্র অ্যালবামও উপহার দেন তিনি।

দেশের চলমান রাজনীতিতে হেফাজতে ইসলামকে বড় ফ্যাক্টর বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট কব্জা করতে সরকার হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীকে কাছে টানছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের একাধিক নেতা নির্বাচন কমিশনে খোঁজ-খবর নিয়েছেন নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন নেয়ার বিষয়ে। নিবন্ধন পেতে কিভাবে এগোতে হবে এ নিয়েও ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন হেফাজতের নেতারা।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা জানিয়েছে, বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৪০টি। ২০১৩ সাল থেকে জামায়াতকে অনিবন্ধিত হিসেবে গণ্য করছে কমিশন। কেননা, হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক রিট পিটিশন নং ৬৩০/২০০৯ এর উপর ১ আগস্ট ২০১৩ তারিখে প্রদত্ত রায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করা হয়। নতুন করে কোনো দলকে নিবন্ধন দেয়া হলে ইসির নিবন্ধিত দলের সংখ্যা হবে ৪১টি। সে ক্ষেত্রে নতুন করে প্রতীকও বরাদ্দ দেয়া হতে পারে।

এসব বিষয়ে হেফাজতের কেন্দ্রিয় সাংগ্রঠনিক সম্পাদক মওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, আমারা এখন ভোটের রাজনীতিতে যেতে চাই না। আমরা ইসলামের পথে থেকে সরকারকে সহযোগিতা করে দলকে এগিযে নিতে চাই। আমাদের আরো অনেক দাবি রয়েছে, সেগুলোকে আদায় করতে আমরা আরো অগ্রসর হব। দলের নির্বাচনে যাওয়ার অনেক সক্ষমতা আছে বলে মনে করি আমরা । কিন্তু বর্তমানে ইসলামের সুরক্ষা নিয়েই ভাবছি।

এ বিষয়ে হেফাজতের অরেক কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি ফয়েজুল্লা বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে নিবন্ধন নেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমাদের কোনো নেতা-কর্মী অতি উৎসাহী হয়ে ইসিতে খোঁজ-খবর নিলে দায় দলের নয়। এরকম সিদ্ধান্ত হলে আমরা সবাইকে জানাব। -আরটিএনএন

You Might Also Like