চাঙ্গা হচ্ছে বিএনপি, নামছে তৃণমূলে উঠান বৈঠকে

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করছে বিএনপি । যদিও দলের নেতারা বলছেন, নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবেন না। কোন কোন নেতা বলছেন, পরবর্তী নির্বাচন না-ও হতে পারে। এমন বক্তব্য-বিবৃতির মধ্যেও দল গোছানো, নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করে অগ্রসর হচ্ছেন তারা। দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন তৃণমূলে উঠান বৈঠক আয়োজন, ভোট কেন্দ্র রক্ষার প্রশিক্ষণসহ ১৩ দফা নিদের্শনা দলের কেন্দ্র থেকে পাঠানো হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে।

এদিকে ভোটকেন্দ্র রক্ষায় সাহসী নেতাদের এজেন্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, বর্ণচোরা নেতাদের সম্পর্কে তথ্য আহ্বান করেছে। দেশের চলমান পরিস্থিতি ও সরকারের ‘বেআইনি’ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে পাঠানো হচ্ছে লিফলেট ও পোস্টার। কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতাদের নেতৃত্বে ৫১টি সাংগঠনিক দল গঠন করেছে বিএনপি। তারা প্রতিটি জেলায় কর্মীসভা করবেন, কেন্দ্রের দিক নির্দেশনা দেবেন। এসব কর্মীসভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের অবস্থান, দলের ঐক্য ও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বক্তব্য রাখার নির্দেশ দেওয়া আছে। আগামী ৭ মে’র মধ্যে এই সফর শেষ করে প্রতিবেদন আকারে তা দলের চেয়ারপারসনের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

প্রতিটি জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপিকে যেসব নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে তার মধ্যে আছে- গোলটেবিল, ঘরোয়া বৈঠক, উঠান বৈঠক ও যে কোন চা চক্রে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও সরকারের ’বেআইনি’ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে। সংগঠন শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রতিটি ভোট কেন্দ্রভিত্তিক দলের নিবেদিত ও সাহসী নেতাদের এজেন্ট হিসাবে নির্বাচিত করতে হবে ও তাদের এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা নিতে হবে। আন্দোলনের পাশাপাশি সংগঠনকে সকল স্তরের নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার উপযোগীভাবে প্রস্তুত করতে হবে। সরকারি দলের সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করতে হবে। নিজ দলের ভিতর ঘাপটি মেরে থাকে বর্ণচোরা নেতাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য প্রমাণসহ ঊর্ধতন নেতৃবৃন্দকে অবহিত করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে যথা নিয়মে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি এলাকায় অনেক মুরুব্বী ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন লোক আছেন যারা আন্দোলন ও নির্বাচনকে প্রভাবিত করে থাকেন। তাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে ও স্বশরীরে যোগাযোগ করে তাদের ফোন বা মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী বিপদগ্রস্থ নেতা-কর্মীদের সহযোগিতা করতে হবে। মানুষের জীবনভিত্তিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও কর্মসূচি ভিত্তিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের উদ্যোগ নিতে হবে। দলের অঙ্গ সংগঠনসমূহের মধ্যে আন্ত:সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে প্রভৃতি।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিরি মধ্যেও সংগঠনের শক্তি বাড়ছে। অবাধ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যেভাবে জনগণের সরকার গঠন করা যায় সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, দল গোছানো, নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলন-সবকিছু নিয়েই আমরা সক্রিয়। সেভাবেই মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

দলের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দল সুসংগঠিত করা, আন্দোলন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি একই সঙ্গে চলছে। বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন হবে না। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে।

সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে ৫১ টিম 

গত ২২ এপ্রিল থেকে সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত ৫১ টিমের দায়িত্বপ্রাপ্তদের পক্ষকালের মধ্যে জেলা সফর শেষ করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রের দিক নির্দেশনার পাশাপাশি জেলায় কোনো বিরোধ থাকলে তা মেটানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে তাদের। ৫১ টিম লিডারকে আজ মঙ্গলবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে। সকাল ১০টায় নয়াপল্টন কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম তাদের জেলা সফর নিয়ে ব্রিফ করবেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

এসব টিমে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কে কোন কোন জেলায় যাবেন ও কর্মীসভা করবেন সেটি নিম্নরূপ: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর- ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও মানিকগঞ্জ, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন- চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ এবং মহানগর, মির্জা আব্বাস- বরিশাল উত্তর ও দক্ষিণ এবং মহানগর, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়- রাজশাহী জেলা ও মহানগর, আবদুল মঈন খান- নোয়াখালী ও লক্ষীপুর, নজরুল ইসলাম খান- রংপুর ও মহানগর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী- সিলেট ও মহানগর। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে আবদুল্লাহ আল নোমান- ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ, অধ্যাপক এম এ মান্নান নারায়ণগঞ্জ ও মহানগর, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-নীলফামারী ও লালমনিরহাট, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ-রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী- ঝালকাঠি, সেলিমা রহমান-নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ, মোহাম্মদ শাহজাহান- মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ, মীর মো. নাসিরউদ্দিন- চাঁদপুর ও কক্সবাজার, খন্দকার মাহবুব হোসেন-ঢাকা, রুহুল আলম চৌধুরী- কুড়িগ্রাম, ইনাম আহমেদ চৌধুরী-শেরপুর, আমিনুল হক চাঁপাইনবাবগঞ্জ, আবদুল আউয়াল মিন্টু- কুমিল্লা উত্তর ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া, এজেডএম জাহিদ হোসেন- সিরাজগঞ্জ ও পাবনা, শামসুজ্জামান দুদু- কুমিল্লা দক্ষিণ ও বান্দরবান, আহমেদ আজম খান- জামালপুর ও শরীয়তপুর, জয়নাল আবেদীন- গাজীপুর, নিতাই রায় চৌধুরী- বরগুনা, শওকত মাহমুদ- রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় কর্মীসভা করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান-টাঙ্গাইল, মিজানুর রহমান মিনু-পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও, আবুল খায়ের ভুঁইয়া- মাগুরা, অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ঝিনাইদহ, মনিরুল হক চৌধুরী-মেহেরপুর, ফজলুর রহমান-নরসিংদী, হাবিবুর রহমান হাবিব- পটুয়াখালী, আতাউর রহমান ঢালী- ফেনী, নাজমুল হক নান্নু, দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী- খুলনা ও মহানগর, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন-মাদারীপুর, মজিবুর রহমান সারোয়ার- ভোলা, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল- যশোর, খায়রুল কবির খোকন- নাটোর, হাবিবউন নবী খান সোহেল- বগুড়া ও গাইবান্ধা, হারুন অর রশীদ- নওগাঁ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন- মুন্সিগঞ্জ, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু- বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গা, নজরুল ইসলাম মঞ্জু- নড়াইল, আসাদুল হাবিব দুলু- দিনাজপুর ও সৈয়দপুর, সাখাওয়াত হোসেন জীবন- সুনামগঞ্জ, বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন- পিরোজপুর, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি-সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি মশিউর রহমান- কুষ্টিয়া জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

You Might Also Like