বিশেষ অভিযানের নামে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে পুলিশ: রিজভী

বিশেষ অভিযানের নামে দেশব্যাপি বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের আবারো গণগ্রেপ্তার শুরু করেছে সরকারের পেটোয়া বাহিনী। সোমবার বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

রিজভী বলেন, বিশেষ অভিযানের নামে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ ও ডিবি পুলিশ হানা দিয়ে ব্যাপক তান্ডব চালাচ্ছে। বাড়িতে নেতা-কর্মীদের না পেলে তাদের পরিবারের সদস্যদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। এমনকি শিশুরাও রক্ষা পাচ্ছেনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিপীড়ণ থেকে। রবিবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র নবনির্বাচিত সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ নেতৃবৃন্দকে সংবর্ধনা দিয়ে নয়াপল্টনস্থ ভাসানী ভবনে মহানগর বিএনপি কার্যালয় থেকে ফেরার পথে মতিঝিল থানার ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো: শামসুদ্দিন বকুল এবং মো: হারুন মিয়াকে মতিঝিল থানা পুলিশ গ্রেপ্তারর করে নিয়ে যায়।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হেলালউদ্দিনকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। গ্রেফতার করা হয়েছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর একরাম হোসেন বাবুকে। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নবনির্বাচিত মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর বিরুদ্ধে। মেহেরপুরে জেলা বিএনপি’র সভাপতি মাসুদ অরুনসহ ২০০ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা জেলা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, চুয়াডাঙ্গা, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশী অভিযানের নামে ব্যাপক ধরপাকড় ও হয়রানী নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে।

২২ এপ্রিল ২০১৭ চুয়াডাঙ্গা জেলাধীন আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি শওকত আলী ফরাজীকে দিনে-দুপুরে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যগতভাবেই প্রতিহিংসাপরায়ণ ও খুন-খারাবী নির্ভর একটি রাজনৈতিক দল।

রিজভী আরো বলেন, সরকারের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়ে চোরাবালির মধ্যে ডুবে যাচ্ছে, যার কারনে এখন বকধার্মিক সাজছে। যে হেফাজতের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে নিরীহ ছাত্র ও আলেমদের ওপর পৈশাচিক রক্তাক্ত আক্রমণ চালিয়ে হত্যাকান্ড চালানো হয়েছে তা দেশব্যাপী ভুলে যায়নি। বিশেষ নজরদারির নামে সারাদেশে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের জঙ্গীদের সাথে যুক্ত করে যেভাবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা পুলিশরা দলন-পীড়ণ করে হয়রানী ও জুলুম করেছে তা নজীরবিহীন। এখন আবার সরকার সেই হেফাজতের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলতে চাচ্ছে শুধুমাত্র ভোটের জন্য। এটা বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ও সরকার প্রধানের আপোষকামী অনৈতিক রাজনীতির এক কলঙ্কজনক দৃষ্টান্ত।

রিজভী বলেন, এই অভিযান চালিয়ে সরকার পার পাবে না, বরং এই অভিযানের মধ্য দিয়ে সরকার নিজেদের পতনে স্বেচ্ছায় স্বাক্ষর করলো। সরকার দেশব্যাপী যে দু:শাসন চালাচ্ছে তা থেকে উত্তরণের জন্য কোন সমীকরণই কাজে আসবে না। আওয়ামী লীগ নেতাদের বাগাড়ম্বর হচ্ছে প্রবাহমান নদীতে ডুবন্ত মানুষের খড়কুটো ধরে কোন রকমে বাঁচার আশার মতো।

You Might Also Like