জাওয়াহিরির শেষ ইচ্ছা ‘মৃত্যুর আগে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা’

আল-কায়েদার প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরি পাকিস্তানের করাচিতে দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার (আইএসআই) আশ্রয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একাধিক সূত্র নিউজ উইককে জানিয়েছে, জাওয়াহিরির শেষ ইচ্ছা, মৃত্যুর আগে যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের হামলা চালানো। তারপরও পাকিস্তান তাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের এক খবরে শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।

সাবেক পাকস্তানি কর্মকর্তারা জানান, হামজা বিন লাদেনের মতো জাওয়াহিরির মৃত দেহরক্ষীর ছেলেও পাকিস্তানে আইএসআই-এর কাছে আশ্রয় নিয়েছেন।

২০০১ সালে টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগনে হামলার পর জাওয়াহিরিকে ধরিয়ে দিলে আড়াই কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, একাধিক ভিডিও বার্তায় জাওয়াহিরিও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

আফগানিস্তান থেকে বেরিয়ে আসার পর থেকেই পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আল জাওয়াহিরিকে রক্ষা করছে বলে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র নিউজউইককে জানিয়েছে।

খুব সম্ভবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান সম্পর্কে আগে থেকেই জানত। সে অনুযায়ী গত বছরের জানুয়ারিতে বারাক ওবামা প্রশাসন জাওয়াহিরির অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।

জাওয়াহিরি যে কক্ষে ছিলেন তার পাশেই ড্রোনটি আঘাত হানে বলে জ্যেষ্ঠ এক জঙ্গি নিউজউইককে জানিয়েছেন। ড্রোনের আঘাতে দেয়াল ভেঙে পড়লে জাওয়াহিরির চশমাও ভেঙে যায়। তবে ওই হামলায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

২০০১ সালের পর থেকে আল-কায়েদার প্রধান এই নেতা অনেকবার ড্রোন হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আফগান তালেবানের এক নেতা। জাওয়াহিরি তার দলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় না থেকে বেশিরভাগ সময়ই করাচিতে আত্মগোপনে থাকেন।

পাকিস্তানের এই শহরে ইসলামি জঙ্গিদের ওপর ব্যাপক সহানুভূতি রয়েছে। এমনকি একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইএসআই-এর ছত্রছায়ায় পাকিস্তানে ওসামা বিন লাদেনের ছেলে হামজার তারকাখ্যাতি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বর্তমানে আল-কায়েদা যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালানোর মতো সামর্থ্য রাখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটা স্বীকারও করেছেন।

You Might Also Like