পহেলা বৈশাখ সকল সমালোচনার উর্ধ্বে : পরীমনি

পহেলা বৈশাখ বাঙালির সর্বজনীন উৎসব। এ দিন বাঙালি জাতিসত্তার মানুষ অতীত ভুলে নতুনের আবাহনে মেতে ওঠে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পালনের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেয় নতুন বছর। ফলে সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশের। সেই উৎসবে একাত্ম হন রূপালি ভুবনের তারকারাও। এ সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনির কাছে তার বৈশাখ ভাবনা সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন-

‘মানুষের জীবনে কিছু পার্ট থাকে। ছোট সময়ের এক অনুভূতি, আবার যখন একটু বড় হয়েছি তখন অন্যরকম অনুভূতি, আবার এখনকার একটা অনুভূতি। সময় পরির্বতনের সঙ্গে অনুভূতির পরির্বতন হচ্ছে। ছোটবেলার বৈশাখ মানেই হচ্ছে মেলায় যাওয়া। নতুন জামা পরতাম। আমাদের গ্রামে যদিও প্রতিবছর মেলা হতো না। মেলায় চুরি করে যাওয়া হতো। বাসা থেকে পালিয়ে যেতাম। আমাদের বাসা থেকে পাঁচ মিনিটের পথ পেরুলেই স্কুল মাঠ। মাঠে মেলা বসতো। ক্লাসের সব বন্ধুরা মিলে দল বেঁধে মেলায় যেতাম। দল বেঁধে যাওয়া মানেই কোনো না কোনো একটা ঝামেলা তৈরি হতো। নাগর দোলা বন্ধ করে দিতাম, আবার কারো কানের কাছে গিয়ে বাঁশি বাজিয়ে হইচই করতাম, বাতাসা খেতাম। এখন আর সেই বাতাসা নেই। ছোটবেলা একটা ফ্রক পরে দৌড়াদৌড়ি করতাম। সে সময় শাড়ি পরা নিয়ে কোনো ভাবনা ছিল না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন শাড়ি কিনতে হয়, ম্যাচিং করে গহনা কিনতে হয়। আবার এক বছর পরেছি এটা আর পরা যাবে না, এক রকম ডিজাইন করা যাবে না- এসবও মাথায় রাখতে হয়। আমার ব্যক্তিগত ডিজাইনার আছে। তাকে দিয়ে ডিজাইন করিয়ে নেই। সাজগোজের ভাবনা, কীভাবে চুল বাঁধবো- এই নিয়ে এখন ব্যস্ত। আসলে সেই বাতাসা খাওয়ার ফিলিংস বা আনন্দটা এখন আর পাই না। এখন মেলাতেও যাওয়া হয় না। সুতরাং ছোটবেলার মেলাটা মিস করছি। পহেলা বৈশাখ সকালবেলা পান্তা-ইলিশ করা হয়। এখন প্রতিযোগিতাটা থাকে, কার ইলিশ কত বড়! কাছের মানুষদের সবার বাসায় যাওয়া হয়। এ-বাসা, ও-বাসা করতে করতে দিন কেটে যায়।’

তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ সকল সমালোচনার উর্ধ্বে। এই দিনটির পর আমরা বাংলা তারিখ কতজন মনে রাখি? নিজেরাই তো মনে রাখি না, আবার নিজেরাই সমালোচনা করি ‘একদিনের বাঙালি’। আসলে তা নয়। প্রতিবছর বৈশাখ উদযাপন করি সেটা অবশ্যই ভালো দিক। আমাদের দেশে অনেকে ভালোভাবে বাংলা বলতে পারে না। অনেকের ‘মা’ ডাকার মধ্যেও যেন একটা স্টাইল থাকে। মা ডাকের কোনো স্টাইল হতে পারে না। মা ডাকে মায়া থাকতে হবে।’

You Might Also Like