মুফতি হান্নান ও তাঁর দুই সহযোগীর ফাঁসি কার্যকর

সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান, তাঁর সহযোগী শাহেদুল আলম বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
বুধবার রাত ১০টায় গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউটি কারাগার মুফতি হান্নান ও বিপুল এবং রাত ১০টা ১ মিনিটে সিলেট কারাগারে রিপনের ফাঁসি কার্য‌কর করা হয়।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় প্রধান ফটক দিয়ে দুইটি অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করে। ডিআইজি প্রিজন তৌহিদুল ইসলাম বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে কারাগারে ঢুকেছিলেন। তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। গাজীপুরের এসপি হারুনুর রশিদ কারাগারে উপস্থিত হন আজ সন্ধ্যা পৌণে সাতটার দিকে। রাত আটটার দিকে আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন কারাগারে প্রবেশ করেন।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক এসএম আলম এবং সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ মনজুরুল হক রাত সাড়ে নয়টায় কারাগারে প্রবেশ করেন। এর আগে দুইজন নির্বাহী মেজিস্ট্রেট কারাগারে প্রবেশ করেন।
কারা মসজিদের পেশ ইমাম হেলাল উদ্দিন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের তওবা পড়ান বলে জানা গেছে। এদিকে জেলখানা রোডে যানবাহন চলাচল ও আশেপাশের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রাখেভ
এর আগে বুধবার দুপুর দুইটার দিকে দুই ভাইয়ের সঙ্গে মুফতি হান্নানের সাক্ষাৎ করানো হয়। এরা হলেন- একই মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা বন্দি মো. মহিবুল ও গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের বন্দি মো. আনিস।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হযরত শাহজালালের (র.) মাজারে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। এতে পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হন। এ মামলার রায়ে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর আদালত পাঁচ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
অন্যদিকে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে শেষ দেখা করতে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন রিপনের বাবা-মা ও স্ত্রীসহ পরিবারের ২৫ সদস্য। এদের মধ্যে বাবা আ. ইউসুফ, মা আজিজুন্নেছা, ভাই নাজমুল ইসলাম ও তার স্ত্রী রয়েছেন বলে কারা সূত্র জানিয়েছে। রিপনের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের কোনাগ্রামে।
এর আগে ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে কারা কর্তৃপক্ষ। বাড়ানো হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সন্ধ্যার পর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় জেলরোড থেকে বন্দরবাজার পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল।

You Might Also Like