পাকিস্তানে কুলভূষণ যাদবের ফাঁসির রায়ে ক্ষুব্ধ ভারত, সংসদে তীব্র নিন্দা

পাকিস্তানে আটক কথিত ভারতীয় গোয়েন্দা কুলভূষণ যাদবের প্রাণদণ্ডের আদেশকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সব দলের এমপিরা।

আজ (মঙ্গলবার) সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভার কাজ শুরু হতেই কুলভূষণ যাদবের প্রাণদণ্ডের আদেশের বিরুদ্ধে সদস্যরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে সোচ্চার হন। বেশ কিছু সদস্য পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র’ ঘোষণা করার দাবি তোলেন।

সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, ‘পাকিস্তান একটি মিথ্যা মামলা তৈরি করেছে। আসলে পাকিস্তানের কাছে কুলভূষণের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নেই। কুলভূষণের ফাঁসি হলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়বে।’

অন্যদিকে, লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘কুলভূষণকে রক্ষা করতে যা যা করণীয় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তা করা হবে।’ তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, কুলভূষণের কাছে বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট ছিল, সেজন্য পাকিস্তান কীভাবে তাকে ভারতীয় গোয়েন্দা আখ্যা দিতে পারে?

তিনি বলেন, আইনের নীতিমালাকে উপেক্ষা করে ওই সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। তাকে আইনজীবীর সুবিধা পর্যন্ত দেয়া হয়নি।

গতকালই পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শংকর ভারতে নিযুক্ত পাক রাষ্ট্রদূত আবদুল বাসিতকে ডেকে পাঠিয়ে তাকে কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন, ‘কুলভূষণের বিরুদ্ধে কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ নেই। সুতরাং তার বিরুদ্ধে বিচারের যে প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, তা ‘প্রসহন’ ছাড়া আর কিছু নয়।’

এদিকে, কুলভূষণের সাজা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের যেসব বন্দিকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল ভারত তা প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী বুধবার তাদের মুক্তি দেয়ার কথা ছিল।

সংসদে আজ কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে সংসদে ওই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে টার্গেট করে বলেন, ‘সরকার এ ব্যাপারে চুপ করে বসে আছে কেন?’ তিনি বলেন, কুলভূষণের যদি ফাঁসি হয় তাহলে একে ইচ্ছাকৃত হত্যা বলে মনে করা হবে। খাড়্গে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘যদি আমাদের প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বাসায় বিয়ের অনুষ্ঠানে বিনা আমন্ত্রণে চলে যেতে পারেন তাহলে এই ইস্যুটি কেন তোলা হচ্ছে না?’

গতবছর ৩ মার্চ কুলভূষণ যাদবকে বেলুচিস্তান থেকে গ্রেপ্তার করেছিল পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মী কুলভূষণ ভারতের গুপ্তচর সংস্থা ‘র’-এর হয়ে কাজ করছিলেন। ইরান থেকে তিনি পাকিস্তানে ঢুকেছিলেন।

ভারত অবশ্য বলেছে, কুলভূষণকে ইরান থেকে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি পাকিস্তানে কীভাবে পৌঁছালেন এ ব্যাপারে পাকিস্তান কোনো সদুত্তর দিতে পারছে না।

ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়,, কুলভূষণ নৌবাহিনীতে কাজ করলেও তার সঙ্গে সরকারের কোনো যোগাযোগ ছিল না। তিনি চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অবসর নিয়েছিলেন। গতবছর ২৫ মার্চ থেকে চলতি বছর ৩১ মার্চের মধ্যে মোট ১৩ বার ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে কুলভূষণকে আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান তাতে কর্ণপাত করেনি।

অন্যদিকে, পাক সেনাবাহিনীর দাবি, কুলভূষণকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আইনি সাহায্য দেওয়া হয়েছিল।

আজ সংসদে এমপি আসাদউদিন ওয়াইসি, সিরাজউদ্দিন আজমল, তারিক আনোয়ার, জয়প্রকাশ নারায়ণ, সৌগত রায়, বৈজয়ন্ত পাণ্ডে, বিনায়ক রাউত, এ সম্পত, এন কে প্রেমচন্দ্রন, এম থাম্বিদুরাই, অনুরাগ সিং ঠাকুর, শশী থারুর প্রমুখ পাকিস্তানের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন।

You Might Also Like