মহেশখালীতে দ্বিতীয় এলএনজি টার্মিনাল

জ্বালানি ঘাটতি পূরণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন-২০১০ এর আওতায় কক্সবাজারের মহেশখালীতে দৈনিক ৫০০ এমএমসিএফ ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এজন্য ১৫ বছর মেয়াদে উদোক্তা সংস্থাকে প্রতি বছর ১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে। এলএনজি টার্মিনালটি বিল্ড ওন অপারেট (বিওওটি) ভিত্তিতে সামিট করপোরেশন লিমিটেড স্থাপন করবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রাথমিক জ্বালানি হিসাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার-কারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, গৃহাস্থালীতে এবং যানবাহনে ব্যাপকহারে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০১৬ সালে দৈনিক গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ ২৭৪২ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করা হলেও ২০৪১ সালে সব সেক্টরে সম্মিলিত গ্যাসের সর্বমোট চাহিদা প্রায় ৮০০০ এমএমসিএফডি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের বর্তমান উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় এ চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় এ ঘাটতি পূরণে এলএনজি আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সূত্র জানায়, গ্যাসের ক্রমাগত চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ঘাটতি চাহিদা পূরণ এবং ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে এলএনজি আমদানি স্বল্প সময়ের প্রয়োজন বিধায় গত বছর মূখ্য সচিবের উপস্থিতিতে এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দ্বিতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।

সূত্র জানায়, সরকারি সিদ্ধান্তের পর সামিট করপোরেশন লিমিটেড এলএনজি টার্মিনালটি স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করে। তাদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটির সঙ্গে নোগোশিয়েশন ও নন-বাইন্ডিং সমঝোতা স্বাক্ষরের জন্য সামিটের প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ইতিপূর্বে সিঙ্গাপুরভিত্তিক এক্সেলিরেট এনার্জির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির সঙ্গে তুলনামূলক পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সামিটের প্রস্তাবটি এক্সেলিরেট এনার্জির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রতিবেদন জমা দেয়। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ কমিটি গঠন করা হয়।

সূত্র জানায়, প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ কমিটি সামিট করপোরেশনের সঙ্গে তাদের প্রস্তাব নিয়ে বৈঠক করে। বৈঠকে, টার্মিনাল ডেভেলপার, প্রজেক্ট স্ট্রাকচার, প্রজেক্ট লোকেশন, প্রজেক্ট কনফিগারেশন, সিডিউল, প্রজেক্ট টার্ম, ফাইন্যান্সিং, ট্যারিফ, ট্যাক্স, ভ্যাট ইন্স্যুরেন্স, ড্রাই ডকিং, পোর্ট সার্ভিস ও অপারেশনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়। পরে কমিটি এক্সেলিরেট এনার্জির সঙ্গে সামিটের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে। এতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামিটের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করে টার্মিনাল ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তি (টিইউএ) অনুস্বাক্ষর হয়।

সূত্র জানায়, টিইউএ অনুযায়ী সামিট করপোরেশন ও সামিট এলএনজি কোম্পানি (পিটিভি) লিমিটেড নামে একটি টার্মিনাল কোম্পানি গঠন করে ১৫ বছর কোম্পানিটি এলএনজি দ্বিতীয় টার্মিনালটি পরিচালনা করবে। পরো কোনো ধরনের বিনিময় মূল্য ছাড়া টার্মিনালটি পেট্রোবাংলার কাছে হস্তান্তর করবে। এ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

You Might Also Like