রাজশাহীর মাটিতেই সমাহিত মডেল রাউধা

রাজশাহীতে পড়তে এসেছিলেন মালদ্বীপের নীলনয়না মডেল রাউধা আতিফ। তারপর আর দেশে ফেরা হলো না। মৃত্যুর পর তাকে রাজশাহীর মাটিতেই সমাহিত করা হলো।

শনিবার দুপুর দুইটায় রাজশাহী মহানগরীর হেতেমখাঁ কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়েছে।

দাফনকাজে তার পরিবারের সদস্যরাই অংশ নেন। এর আগে জোহরের নামাজের পর কবরস্থান সংলগ্ন রওজাতুস সালেহীন জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে তার পরিবারের সদস্য, সহপাঠী আর স্থানীয় লোকজন অংশ নেন।

জানাজার আগে দুপুর একটার দিকে রাজশাহীর পর্যটন মোটেল থেকে মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আইশাদ শান শাকির ও কমনওয়েলথের সেকেন্ড সেক্রেটারি ইসমাইল মুফিদ কবরস্থানে আসেন। এরপর দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি গাড়িতে করে রাউধার মা, বাবা ও ভাইসহ আট থেকে নয়জন নিকটাত্মীয়কে আনা হয়।

এর আগে রওজাতুস সালেহীন মসজিদের ভেতর শেষবারের মতো সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যদের রাউধার লাশ দেখানো হয়। এ সময় রাউধার মা আমিনাথ মুহারমিমাথ মেয়ের সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে তারা কোনো গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেননি।

লাশ দাফনের সময় রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বোয়ালিয়া, রাজপাড়া ও শাহমখদুম থানার ওসিসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় রাউধার লাশের দাফন সম্পন্ন হয়।

গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হোস্টেল থেকে এমবিবিএস দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী রাউধার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। রাউধার বাড়ি মালদ্বীপের মালেতে। তার বাবা মোহাম্মদ আতিফ পেশায় একজন চিকিৎসক।

২০১৬ সালের অক্টোবরে বিখ্যাত ‘ভোগ ইন্ডিয়া’ সাময়িকীর নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সংখ্যায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মডেলদের নিয়ে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ‘বৈচিত্রের সৌন্দর্য উদযাপন’ (সেলিব্রটিং বিউটি ইন ডাইভার্সিটি) শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছিলেন মালদ্বীপের নীলনয়না এই মডেল। উঠতি মডেল হিসেবে মাত্র ২০ বছর বয়সি রাউধার রয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতি।

নগরীর শাহমখদুম থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, রাউধার লাশ রাজশাহীতে দাফনের জন্য মালদ্বীপের দূতাবাস থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। মন্ত্রণালয়ে সে আবেদন মঞ্জুর হয়। এরপর লাশ দাফনের জন্য পুলিশকে অনুমতি দেওয়া হয়।

এদিকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়া মডেল রাউধা কেন আত্মহত্যা করেছেন তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তবে পুলিশের একটি সূত্র বলছে, বাবা-মায়ের দাম্পত্য কলহের জের ধরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। রাউধার বাবা থাকেন ভারতে। আর মা থাকেন মালদ্বীপে। তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ ছিল। এ জন্য লাশ দেশে নিয়ে যাওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছিল জটিলতা।

You Might Also Like