বাবরী মসজিদ যেখানে ছিল সেখানেই তৈরি করতে হবে: আজম খান

ভারতের উত্তর প্রদেশের সাবেক মন্ত্রী ও সমাজবাদী পার্টির সিনিয়র নেতা মুহাম্মদ আজম খান বলেছেন, বাবরী মসজিদ যেখানে ছিল সেখানেই তা তৈরি করতে হবে। ১৯৪৯ সালের ২২/২৩ ডিসেম্বরের রাতে যেখানে বাবরী মসজিদ ছিল সেখানেই বাবরী মসজিদ, অন্য কোথাও নয়।

সম্প্রতি বিজেপি’র সিনিয়র নেতা ও এমপি সুব্রমনিয়াম স্বামী সরযূ নদীর ওপারে মসজিদ নির্মাণ করতে মুসলমানদের পরামর্শ দিয়েছেন। আজম খান বলেন, আমরা কুরবানি দেয়ার জন্য সবসময় প্রস্তুত। আমরা মুজাফফরনগর, দাদরি, গুজরাটে কুরবানি দিয়েছি, ভবিষ্যতেও কুরবানি দেয়ার জন্য তৈরি আছি।

১৯৪৯ সালের ২২ ডিসেম্বর মধ্যরাতে বাবরী মসজিদের মধ্যে অজ্ঞাত লোকজন রামের মূর্তি স্থাপন করে। মুসলিমরা ওই মূর্তি দেখে সেসময় থানায় এফআইআর করেছিলেন। আজম খান সম্ভবত রাম মন্দির নির্মাণের দাবি প্রসঙ্গে সেই পুরোনো কথাই তুলে ধরতে চেয়েছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সন্ন্যাস বা রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় রামমন্দির আন্দোলনের আঁতুড়ঘর গোরক্ষনাথ মঠ থেকে। ১৯৪৯ সালে ওই মঠ থেকেই রাম জন্মভূমি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন মোহন্ত যোগী দিগ্বিজয় নাথ। টানা ৯ দিন ‘রামচরিত মানস’ পাঠের পরে বাবরি মসজিদে ঢুকে রাম-সীতার মূর্তি বসানো হয়। আদিত্যনাথ গোরক্ষনাথ মঠের বর্তমান মোহন্ত।

বিজেপি’র সিনিয়র নেতা ও এমপি সুব্রমনিয়াম স্বামী সম্প্রতি মুসলিমদের উদ্দেশ্যে সরযূ নদীর ওপারে মসজিদ নির্মাণ করার পরামর্শ দিয়ে রাম মন্দিরকে রামের জন্মভূমিতে নির্মাণ করতে দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন। তার দাবি, মসজিদ অপসারণ করা যায়, ভেঙে ফেলা যায় কিন্তু মন্দিরে মূর্তি স্থাপনের পরে তাকে স্পর্শও করা যায় না।

সমাজবাদী পার্টির নেতা মুহাম্মদ আজম কার্যত স্বামীর ওই পরামর্শকে প্রত্যাখ্যান করে বাবরী মসজিদ যেখানে ছিল সেখানেই নির্মাণ হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন।

You Might Also Like