এনটিভির আতিক হত্যা : ১ জনের ফাঁসি, ২ জনের যাবজ্জীবন

এনটিভির ভিডিও এডিটর আতিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় এক আসামির ফাঁসি ও দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- শাকিল শিকদার। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন- আব্দুল্লাহ মো. ইবনে আলী সরকার ওরফে নাহিদ ও ফোরকান। চার আসামির মধ্যে অপর আসামি খোকনকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকার দ্বিতীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুজ্জামান।

আসামি শাকিল শিকদারের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ফছাসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৩৯৪ ধারায় ছিনতাইয়ের অভিযোগও প্রমাণিত হলেও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় এ ধারায় আলাদাভাবে কোনো সাজা দেননি আদালত।

আসামি আব্দুল্লাহ মো. ইবনে আলী সরকার ওরফে নাহিদ ও ফোরকানের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় হত্যা ও ৩৯৪ ধারায় ছিনতাইয়ের দুই অভিযোগই প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে দু’বার করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। তবে দু’টি সাজা একইসঙ্গে খাটতে হবে। ফলে যাবজ্জীবন (৩০ বছর) কারাগারে থাকতে হবে তাদের। একই সঙ্গে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

চোরাই মোটরসাইকেল নিজের দখলে রাখায় ৪১১ ধারায় আসামি খোকনকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে খোকন পলাতক রয়েছেন। বাকি তিনজনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

গত ১৫ জুন পুনরায় যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মঙ্গলবার ২৪ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে গত ১০ ‍জুন মামলাটি রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলায় চার্জ (অভিযোগ) গঠনে ত্রুটি থাকায় রায়ের পর্যায় থেকে মামলাটি পুনরায় উত্তোলন করে নতুন করে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৯৪ ধারায় চার্জ গঠন করা হয়।

মামলার ২৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

এর আগে ২০১০ সালের ২২ জুন ৪ আসামির সকলের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে এবং ওই বছরেরই ৬ অক্টোবর ডাকাতির অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।

আসামিরা হলেন, আব্দুল্লাহ মো. ইবনে আলী সরকার ওরফে নাহিদ, খোকন, শাকিল শিকদার ও ফোরকান। আসামি নাহিদ ও শাকিল মামলার শুরু থেকেই কারাগারে আটক আছেন। গত ১৫ জুন ফোরকানের জামিন বাতিল করে কারাগারে নেওয়া হয়্। আসামি খোকন পলাতক।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, নিহত আতিকুল ইসলাম এনটিভির ভিডিও এডিটর হিসাবে কাজ করে আসছিলেন। প্রতিদিনের মতো ২০০৯ বছরের ১৩ ফেব্র“য়ারি রাত ৮ টার দিকে এনটিভি’র কাজ শেষ করে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন।

পথিমধ্যে ঢাকা-টঙ্গী ডাইভারশন রোডের মগবাজার রেল ক্রসিংয়ের কাছাকাছি তালতলা গলির ভেতর জনৈক বাবুলের চায়ের দোকানের সামনে সন্ত্রাসীরা আতিকুল ইসলামকে পরপর দু’টি গুলি করে মোটর সাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ সময় পথচারী জাফর ও টিটু তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরদিন ১৪ ফেব্র“য়ারি নিহতের ভাই আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আবুল খায়ের ঘটনা তদন্ত করে ওই বছরের ৯ আগস্ট আব্দুল্লাহ মো. ইবনে আলী সরকার ওরফে নাহিদ, মো. খোকন, মো. শাকিল শিকদার ও ফোরকানকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন।

হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আব্দুল্লাহ মো. ইবনে আলী সরকার ওরফে নাহিদ ও মো. শাকিল শিকদার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী রায়হান মোর্শেদ।

You Might Also Like