প্রিন্স মুসাকে তলব করেছে শুল্ক গোয়েন্দা

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে রেঞ্জ রোভার গাড়ি ব্যবহারের ঘটনায় প্রিন্স মুসা বিন শমসেরকে তলব করেছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ।

বৃহস্পতিবার পাঠানো এক চিঠিতে তাকে আগামী ২০ এপ্রিল বিকেল ৩টায় শুল্ক গোয়েন্দার সদর দপ্তরে হাজির হতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে ভোলা বিআরটিএ-তে ওই গাড়ির নিবন্ধন (ভোলা ঘ ১১-০০ ৩৫) গ্রহণকারী ফারুকুজ্জামান চৌধুরীকেও তলব করা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

শুল্ক ফাঁকি, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তদন্তের প্রয়োজনে তলবের এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার (২১ মার্চ) প্রিন্স মুসার গুলশান-২ এর বাড়িতে অভিযানের সূত্রে গাড়িটি আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা।

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধনকুবের মুসা বিন শমসেরের গুলশানের বাড়িতে শুল্ক গোয়েন্দারা অভিযান চালায়। এই গাড়িটি ভুয়া আমদানি দলিল দেখিয়ে ভোলা ঘ ১১-০০-৩৫ হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাগজপত্র যাচাইকালে দেখা যায়, গাড়িটি ভুয়া বিল অব এন্ট্রি দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া হয়েছিল। এখন শুল্ক আইন ও মানি লন্ডারিং আইনে তদন্ত শেষে মামলা ও পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে আরো জানা যায়, ২০১১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ১৩০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের বিল অব এন্ট্রি করা হয়েছে, এই মর্মে ভোলা থেকে রেজিস্ট্রেশন গ্রহণ করা হয়। কিন্তু কাস্টম হাউসের নথি যাচাই করে এই বিল অব এন্ট্রি ভুয়া হিসেবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও রেজিস্ট্রেশনে গাড়িটির রঙ সাদা উল্লেখ থাকলেও উদ্ধারকৃত গাড়িটি কালো রঙের। রেজিস্ট্রেশন ঠিকানায় তিনি ৫এ/বি, হাউস ৮, রোড ১০৪, গুলশান-২ ব্যবহার করেছেন। এ বিষয়ে বাড়ির সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ গ্রহণ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রিন্স মুসা বিন শমসেরকে গাড়ি হস্তান্তর করার জন্য মঙ্গলবার সকাল ৮টায় নোটিস দেওয়া হয় । কিন্তু তিনি জমা না দিয়ে গাড়িটি ধানমন্ডিতে আত্মীয়ের বাসায় লুকিয়ে রাখেন। ওই দিন সকাল সাড়ে ৬টায় প্রথমে ওই গাড়িতে করে নাতিকে ধানমন্ডির সানবিম স্কুলে পাঠানো হয়। এরপর শুল্ক গোয়েন্দার উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়িটি অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়। শুল্ক গোয়েন্দার দল গাড়ির খোঁজ করতে প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের গুলশানের বাড়িতে গেলে তিনি তা ধানমন্ডির হাউস ৫১-এ, রোড ৬এ-র লেকব্রিজ অ্যাপার্টমেন্টে লুকিয়ে রাখেন।

সূত্র জানায়, শুল্ক গোয়েন্দার দল ধানমন্ডির ওই বাড়ি থেকে বেলা সাড়ে ৩টায় গাড়িটি উদ্ধার করে। ভোলার বিআরটিএ থেকে জানা যায়, এই গাড়িটি পাবনার ফারুকুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া হয়। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটি মুসা বিন শমসের ব্যবহার করেন।

প্রিন্স মুসার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা তদন্তাধীন আছে।

You Might Also Like