হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলা চলবে

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিল তা বাতিল করেছে আপিল বিভাগ। আজ (বৃহস্পতিবার) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ শুনানি নিয়ে দুদকের আবেদন নিষ্পত্তি করে ওই আদেশ দেন।

৭ মার্চ খালেদা জিয়ার এক আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট এই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করার পাশাপাশি রুল দেয়। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে দুদক। চেম্বার বিচারপতির আদালত হয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) বিষয়টি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য ওঠে। আজকের এই আদেশের ফলে খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে এ মামলার কার্যক্রম বিচারিক আদালতে চলতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের যে বেঞ্চ এই মামলায় রুল ও স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন, সেই বেঞ্চের এই মামলা শুনানির এখতিয়ার ছিল না। আপিল বিভাগ রুল খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে খালেদার ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতে এই মামলা চলতে আইনগত বাধা নেই।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও এ জে মোহাম্মদ আলী।

এর আগে গত বছরের ১ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের ক্ষেত্রে নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচারিক কার্যক্রম আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে রুল জারি করে হাইকোর্ট।

এর মধ্যে মওদুদ আহমদ এ মামলায় আরও কিছু নথি তলব চেয়ে এবং ওয়াশিংটনে নাইকোর বিষয়ে চলা আরবিট্রেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু গত ১৬ আগস্ট বিচারিক আদালত এ আবেদন খারিজ করে দেন। পরে এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ফৌজদারি আবেদন করেন মওদুদ আহমদ। দু’দিনের শুনানিতে ১ ডিসেম্বর আট সপ্তাহের জন্য মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে চার সপ্তাহের রুল জারি করা হয়। রুলে বিচারিক আদালতের ১৬ আগস্ট দেয়া আদেশ কেন অবৈধ হবে না- তা জানতে চেয়েছেন আদালত। মওদুদ আহমদের আবেদনে জারি করা রুলটি হাইকোর্টে বিচারাধীন।

২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর নাইকো দুর্নীতি মামলা স্থগিত চেয়ে নিম্ন আদালতে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। সে সময় আবেদনটি নামঞ্জুর করা হয়। পরে এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন খালেদা জিয়া।

কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় নাইকো দুর্নীতি মামলাটি করেন।

২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান।

অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

You Might Also Like